default-image

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের ডাকা অবরোধের শুরুতে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী সড়কে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ ভাগ কমে গিয়েছিল। হরতাল-অবরোধের ৪৮ দিনের মাথায় এসে এই রুটে এখন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গাড়ি চলাচল করছে মাত্র ২৫ শতাংশ কম। 
ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৭টি জেলায় যাওয়া ও আসার জন্য সব ধরনের পরিবহনকে যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু পার হতে হয়। এ ছাড়া খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় যাতায়াতের জন্য কিছু পরিবহন এই রুট ব্যবহার করে। এ সেতু পারাপারের সময় টোল দিতে হয়। সেখানে প্রতিদিন কতটি গাড়ি চলাচল করে, সেই হিসাব রাখা হয়।
এ রুটে যাতায়াতের জন্য এখন আর যাত্রীদের পরিবহন-সংকটে পড়তে হচ্ছে না। বরং পরিবহনগুলো যাত্রী-সংকটে পড়েছে। ভয় ও আতঙ্কের কারণে সাধারণত মানুষের খুব বেশি প্রয়োজন না পড়লে দূরে যাত্রা করছে না। ফলে বেশির ভাগ গাড়িতে সিটের চেয়ে কমসংখ্যক যাত্রীর উপস্থিতি দেখা গেছে।
বঙ্গবন্ধু সেতু ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত এক কর্মকর্তার কাছ থেকে হরতাল-অবরোধ ডাকার আগে ও পরের সময়টিতে সেতু ওপর দিয়ে গাড়ি চলাচলের একটি হিসাব পাওয়া গেল। হিসাব অনুযায়ী, এ সেতুর ওপর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ১২ হাজার গাড়ি চলাচল করে। গত বছরের ২২ ডিসেম্বর সেতুর ওপর দিয়ে ১২ হাজার ৮৪২টি গাড়ি পার হয়েছিল। ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ গাড়ি পারাপারের এটিই রেকর্ড। এ অবস্থা চলতে থাকে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত। ৪ ও ৫ জানুয়ারি বিএনপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সরকারই ঢাকাকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন করে ফেললে ওই সময়ে সেতুর ওপর দিয়ে পারাপারের সংখ্যা কমে ১০ হাজারের নিচে নেমে যায়। ২০-দলীয় জোট ৬ জানুয়ারি থেকে অবরোধ ডাকার পর ৬ ও ৭ জানুয়ারি গাড়ি চলাচল ৩০০ থেকে ১ হাজারের মধ্যে নেমে আসে। বিশ্ব ইজতেমার কারণে ৮ জানুয়ারি থেকে গাড়ি চলাচল আবারও বাড়তে থাকে। তার পরও জানুয়ারি মাসে গাড়ি চলাচল প্রায় ৪০ শতাংশ কম ছিল। এ সময় প্রতিদিন গড়ে সাড়ে সাত হাজার থেকে আট হাজার গাড়ি এ রুটে চলাচল করে।
ফেব্রুয়ারিতে গাড়ির চলাচল দ্রুত বাড়তে থাকে। গত সপ্তাহের হিসাব অনুযায়ী (১৫ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি) গড়ে প্রতিদিন ৯ হাজার ২৩৭টি গাড়ি চলাচল করছে। সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, মূলত রাতে গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখার কারণে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর থেকে যান চলাচল এখন অন্যান্য সময়ে তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম। অন্যদিকে হাইওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেছেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এ সড়কের ওপর দিয়ে ট্রাক চলাচল প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে। এ সময়ে ব্যবসায়ীরা একান্ত¯প্রয়োজন না হলে পণ্য পরিবহন করছেন না।
গোরাই হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে বলেন, যান চলাচল প্রায় স্বাভাবিক হয়ে গেছে। ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল অন্যান্য সময়ের তুলনায় কিছুটা কম। এ ছাড়া অন্যান্য পরিবহন চলাচল প্রায় স্বাভাবিক। এখন এ সড়কে আগের মতোই যানজট হচ্ছে।
যাত্রী কম: ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলগামী নিরালা পরিবহনের একটি গাড়ির মহাখালী থেকে ছেড়ে আসার নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে। কিন্তু যাত্রী-সংকটের কারণে গাড়িটি প্রায় ৪০ মিনিট পর ছেড়েছে। তার পরও ৪০ সিটের গাড়িতে যাত্রী ছিল মাত্র ১৯ জন। একই অবস্থা দেখা গেল ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনো, কিশোরগঞ্জ যাওয়ার গাড়ির ক্ষেত্রে।
বঙ্গবন্ধু সেতুর কাছে দাঁড়িয়ে দেখা গেল, প্রায় সব পরিবহন কোম্পানির গাড়িই উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছে। হানিফ, শ্যামলী, খালেক, কেয়া, দেশ ট্রাভেলসের গাড়ি চলছে। তবে গতকাল বেশির ভাগ গাড়ির পেছনের চার-পাঁচটি সারি ছিল খালি। এ রুটে বিলাসবহুল এসি গাড়িও চলছে।
পরিবহন ব্যবসায়ী শফিউল আলম জানালেন, টাঙ্গাইল থেকে সব রুটে গাড়ি চললেও যাত্রী কম হচ্ছে। কেবল গত শুক্রবারই দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যাত্রীর চাপ ছিল।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন