default-image

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সারা দেশে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকা অর্ধদিবস হরতাল পালিত হয়েছে। হরতালে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

আজ রোববার সকাল ৬টা থেকে হরতাল শুরু হয়। চলে দুপুর দুইটা পর্যন্ত। বাম গণতান্ত্রিক জোটের এই হরতালের প্রতি নৈতিক সমর্থন দিয়েছিল বিএনপি।

হরতালের সমর্থনে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিচ্ছিন্নভাবে মিছিল, সমাবেশ ও পিকেটিং হয়। হরতালের প্রভাব তেমনভাবে কোথাও লক্ষ করা যায়নি। যান চলাচল ছিল স্বাভাবিক।

বাম গণতান্ত্রিক জোট বলছে, অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। সিএনজির দাম বাড়ানোর ফলে পরিবহনব্যয় বেড়ে যাবে। শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে শিল্পপণ্যের দাম বাড়বে।

ঢাকা

সকাল সাতটার পর থেকে পুরানা পল্টন মোড়ে হরতালের সমর্থনে অবস্থান নেন জোটের নেতা-কর্মীরা। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তাঁরা গাড়ি চলাচলে বাধা দিতে শুরু করেন। এ সময় বিপ্লবী সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের দপ্তর সম্পাদক হযরত আলীকে আটক করে পুলিশ। সেখানে অবস্থানরত জোটের নেতা-কর্মীদের প্রতিবাদের মুখে আধা ঘণ্টা পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সাবেক ছাত্র নেতা ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য লিটন নন্দী বলেন, পল্টনের মতো সারা দেশেই পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালনে বাধা দিয়েছে। সড়কে গাড়ি চললেও হরতালে মানুষের সমর্থন ছিল। জীবিকার তাগিদে মানুষ হয়তো বাইরে বের হয়েছেন। কিন্তু গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ডাকা এই হরতালের প্রতি মানুষের মৌন সম্মতি ছিল।

সকাল সাতটার দিকে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতা-কর্মীরা টিএসসি থেকে মিছিল নিয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি ঘুরে শাহবাগ মোড় অবস্থান নেন। তাঁরা সড়কে বসে পড়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, সায়েন্স ল্যাব ও প্রেসক্লাব মোড় থেকে আসা যানবাহনগুলো আটকে যায়। শুধু বাংলামোটরের দিক থেকে প্রেসক্লাবের দিকে যাওয়া সড়কে যানবাহন চলে।

রাজধানীর প্রেসক্লাব ও পল্টন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে সড়কে যানবাহন চলছে স্বাভাবিক দিনের মতোই।

চট্টগ্রাম

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে হরতালের তেমন কোনো প্রভাব লক্ষ করা যায়নি। নগরের জামালখান, কাজীর দেউড়ি, জিইসির মোড়, অলংকার মোড়সহ বিভিন্ন জায়গায় যান চলাচল স্বাভাবিক দেখা গেছে। স্কুল-কলেজেও খোলা রয়েছে। নগরীর কোথাও পিকেটিং চোখে পড়েনি।

সিলেট

বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকা অর্ধদিবস হরতাল সিলেটেও পালন করা হয়। সকালে হরতাল শুরুর পর নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যানচলাচল অন্যান্য দিনের তুলনায় কিছুটা কম।

হরতালের সমর্থনে মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতা-কর্মীরা।

নগরের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় বামপন্থী বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা রাস্তার মোড় আটকে পথসভা করেন।

তার আগে সকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করে সিপিবি, বাসদ, বাসদ মার্কসবাদীসহ সম্মিলিত বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতা-কর্মীরা নগরের বন্দরবাজার এলাকা থেকে মিছিল বের করে। মিছিলটি নগরের কিনব্রিজ, সুরমা মার্কেট, বন্দরবাজার, ধূপাদিঘীর পাড় হয়ে ফের বন্দরবাজার কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এ সময় কোর্ট পয়েন্ট এলাকার মোড় আটকে পথসভায় বক্তব্য দেন নেতা-কর্মীরা।

সকাল থেকে সিলেট নগরের বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান করে পুলিশ।

নগরের বন্দরবাজার, চৌহাট্টা, রিকাবীবাজার, লামাবাজার, শেখঘাট, তালতলা, মির্জাজাঙ্গাল, নয়সড়ক, কুমারপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যানচলাচল করলেও তা সংখ্যায় কম। সড়কে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশার পাশাপাশি প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস চলাচল করছে। হরতাল চলাকালে পিকেটিংয়ের চিত্র চোখে পড়েনি।

সিলেট নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. জেদান আল মুসা বলেন, হরতালে বিশৃঙ্খলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মাঠে ছিল।

বরিশাল

হরতালে বরিশালে নগরে তেমন প্রভাব পড়েনি। সকাল থেকে নগরে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতা-কর্মীরা।

ভোর ছয়টা থেকে নগরের সদর রোডের কাকলির মোড় ও জেলখানা মোড় এলাকায় যান চলাচল বন্ধ রাখতে চালকদের অনুরোধ জানান হরতাল-সমর্থকেরা। সকাল সাড়ে ছয়টায় জেলখানা মোড়ে হরতালের সমর্থনে লাল পতাকা নিয়ে মিছিল বের হয়।

সকাল সোয়া আটটার দিকে কাকলির মোড়ে অবস্থান নেওয়া হরতাল-সমর্থকদের হটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে কাকলির মোড়ের সমাবেশ করে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

সমাবেশে বাসদের জেলা সদস্যসচিব মনীষা চক্রবর্তী বলেন, হরতালের সমর্থনে সকাল থেকে তাঁরা রাজপথে নামার পর বেশ কয়েক দফা পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়েছেন।

গণসংহতি আন্দোলন বরিশাল জেলা শাখার আহ্বায়ক দেওয়ান আবদুর রশিদ নিলু বলেন, আজ গ্যাসের দাম বাড়লে সবকিছুর দাম বাড়বে। যার প্রভাব প্রতিটি মানুষকে ভোগ করতে হবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সিপিবির মিজানুর রহমান, কমিউনিস্ট লীগের জলিলুর রহমান প্রমুখ।

হরতালে লঞ্চ ও বাসসহ সব ধরনের যানবাহন চলে। নগরের কার্যক্রম স্বাভাবিক।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন