বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০–দলীয় জোটের ডাকা হরতাল গতকাল সোমবার চট্টগ্রামে ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে। সকালের দিকে নগরের চট্টেশ্বরী রোডে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের হলে সামান্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া নগরের আর কোথাও হরতাল-সমর্থকদের দেখা যায়নি।

গতকাল সকাল আটটার দিকে নগরের চট্টেশ্বরী রোড এলাকায় হরতালের সমর্থনে বিএনপি মিছিল বের করে। পরে মিছিলটি আটকে দেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির কর্মীদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ বিএনপির কর্মীদের ধাওয়া করে পাঁচজনকে আটক করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে মিছিলটি বের হয়। তাঁরা মিছিল করে ওই পথ দিয়ে নাসিমন ভবনের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশ বিএনপির কর্মীদের বাধা দেয়। তখন পুলিশের সঙ্গে আমীর খসরুর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। কিছু দূর যাওয়ার পর কাজীর দেউড়ি মোড়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আবার বাধা দেয় পুলিশ। সেখানে পুলিশের সঙ্গে তাঁর আরেক দফা বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাগ্‌বিতণ্ডার পর আমীর খসরু দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে নাসিমন ভবনের দিকে চলে যান। সেখানে তাঁরা সমাবেশ করেন। তবে পুলিশের কঠোর মনোভাবের কারণে দলীয় নেতা-কর্মীরা নাসিমন ভবনের কাছে ঘেঁষতে পারেননি। সমাবেশস্থলের সামনে গণপরিবহন চলতে দেখা গেছে।

নগরের আরও কোথাও হরতাল-সমর্থকদের দেখা যায়নি। তাই গণপরিবহন চলেছে বিনা বাধায়। বন্দরে পণ্য ওঠানামা ও সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। বড় বিপণিবিতান ও দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ ছিল। ট্রেনগুলো সূচি মেনে চলাচল করেছে। ফলে গতকালের হরতালে নগরজীবনে তেমন প্রভাব পড়েনি।

সমাবেশ: নাসিমন ভবনের সামনের সমাবেশে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সরকার সারা দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধা দিচ্ছে। প্রশাসনের কিছু অতি উৎসাহী কর্মকর্তা দলীয় কর্মীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। উৎসাহী সরকারি কর্মকর্তাদের মনে রাখা উচিত, এই সরকার শেষ সরকার নয়। যারা নিরীহ মানুষের ওপর হামলা-মামলা করছে, সময়মতো জনগণ তাদের সমুচিত জবাব দেবে।’

আমীর খসরু আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রশাসনের ওপর ভর করে অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। গ্রেপ্তার করে, মামলা করে, নির্যাতন করে সরকার গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু জনগণের কোনো আন্দোলনই ব্যর্থ হয়নি, এই আন্দোলনও ব্যর্থ হবে না।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নগর বিএনপির সহসভাপতি সামশুল আলম। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন নগর বিএনপির সহসভাপতি আবু সুফিয়ান।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন