চন্দনাইশে আওয়ামী লীগের সভায় গুলি, সড়ক অবরোধ

চন্দনাইশে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং গুলিবর্ষণের ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাগিচারহাট এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

জাতীয় শোক দিবস ও একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে এ সভার আয়োজন করা হয়। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পুলিশ সূত্র ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জানান, কিছুদিন আগে চন্দনাইশে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে দুই বিরোধ সৃষ্টি হয়। দুপক্ষের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।

নেতা-কর্মীরা জানান, চন্দনাইশ হাশিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস ও একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতের স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান। তিনি বক্তব্য শেষ করে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার পরপরই গুলি ছোড়া হয়। এরপর সভার মঞ্চ ঘিরে একদল যুবক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। তখন মঞ্চে থাকা লোকজনও ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে।

দুপক্ষ পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই সময় একটি কমিউনিটি সেন্টারেও ভাঙচুর হয়। পরে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অবস্থান নেয়।

সড়কে টায়ার জেলে বিক্ষোভ করতে থাকেন তাঁরা। এতে ব্যস্ততম এ সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। সড়কের দুদিকে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় যানজট লেগে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বক্তব্য দেওয়ার পর অতর্কিতভাবে সভাস্থলের বাইরে থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলি বর্ষণ হয়েছে।’ কারা জড়িত জানতে চাইলে তিনি বলেন, সন্ত্রাসী, ডাকাতেরাই এসব করে। দলীয় নেতা-কর্মী হলে কেউ এসব করতে পারে না।

হাশিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম হামলার ঘটনার জন্য চন্দনাইশ পৌরসভা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহসভাপতি আবু তৈয়বের অনুসারীদের দায়ী করেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আবু তৈয়ব বলেন, ঘটনার সময় তিনি চট্টগ্রাম শহরে ছিলেন। তিনি কিংবা তাঁর অনুসারীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।

ঘটনায় সময় দুই পক্ষের পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেলেও তাঁদের কেউ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেননি। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে রাতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, দুপক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় পাঁচ থেকে ছয়জন আহত হয়েছেন। মহাসড়কে আধঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকলেও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। কেউ গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পুলিশ পায়নি।