default-image

বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, করোনায় বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ কাজ হারিয়ে ‘মানবেতর’ জীবন যাপন করছেন। তাঁদের অনেকে ‘ভিক্ষার ঝুলি’ হাতে নিতে বাধ্য হয়েছেন। সরকার তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ কথা বলেন। মে দিবস উপলক্ষে বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘করোনার কারণে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে লাখ লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। যাঁরা কর্মহীন হয়েছেন, তাঁদের জীবন ও জীবিকার জন্য কোনো ব্যবস্থা হয়নি। ঈদের সময় আড়াই হাজার টাকা দেওয়া কিংবা কখনো কখনো কিছু সাহায্য দেওয়া, এটা যথেষ্ট নয়।’

তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষ যত দিন কর্মক্ষম থাকেন, তত দিন তাঁরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সর্বোচ্চ পরিশ্রম করে অর্থনীতির উন্নয়নে অবদান রাখেন। কিন্তু যখন তাঁরা অসুস্থ হন, কাজ করার অবস্থায় থাকেন না, তখন তাঁদের দায়িত্ব নিতে হয় রাষ্ট্রকে। এটাই একটি কল্যাণমূলক ও সভ্য রাষ্ট্রের চরিত্র।

‘কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, লক্ষ লক্ষ শ্রমিক এই করোনাকালে কর্মচ্যুত হয়েছেন। অনেকে ভিক্ষার ঝুলি হাতে নিতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু সরকার তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না।’

বিজ্ঞাপন

করোনায় আক্রান্ত হলে কিংবা মৃত্যুবরণ করলে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘কিন্তু মূল যে উৎপাদনশীল শ্রমিক, যাঁরা আরও বেশি পরিশ্রম করেন, যাঁরা অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন, সেই সব শ্রমজীবী মানুষের জন্য একই নিয়ম হবে না কেন? কেন আমাদের সাংবাদিক বন্ধুর জন্য একই নিয়ম হবে না? কেন পুলিশ ভাইদের জন্য একই নিয়ম হবে না?’ করোনায় আক্রান্ত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা এবং কেউ মারা গেলে তাঁর পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

করোনাকালে শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘করোনায় মানুষ অনেক কষ্টে আছেন। এই সময় আমরা আন্দোলন-সংগ্রামের কথা বলছি না। কিন্তু করোনার এই দুঃসময়ে সবার সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের রেশনিং পদ্ধতি চালু করতে হবে। এটা ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসছে। শ্রমজীবী মানুষ যাতে রেশনিং পায় এবং ন্যায্যমূল্যের দোকান থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’

নজরুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশের বহু গরিব শ্রমিক আট ঘণ্টার বেশি কাজ করেন। কেন তাঁদের অতিরিক্ত কাজ করানো হয়? তাঁদের ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয় না। শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দিতে হবে। রাষ্ট্রের উন্নয়নে শ্রমিকেরা মূল ভূমিকা পালন করেন। উন্নয়নের মূল সুবিধাও শ্রমিকদের প্রাপ্য।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন