default-image

যশোর পৌরসভার বর্তমান মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার। তিনি সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের চাচাতো ভাই। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর শহরের উন্নয়নে বেশ কিছু দৃশ্যমান উন্নয়নও করেছেন। কিন্তু এবার মেয়র পদে জহিরুল দলীয় মনোনয়ন পাননি। মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার গনী খান। তিনি জেলার রাজনীতির প্রভাবশালী অংশের নেতৃত্ব দেওয়া সাংসদ শাহীন চাকলাদারের ‘বলয়ে’র বাইরের।

যশোরের রাজনীতির অপর বলয়ের নেতৃত্বে আছেন সদর আসনের সাংসদ কাজী নাবিল আহমেদ। গনী খানের এই বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততাই বেশি।

জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও মেয়র জহিরুলকে এবার মনোনয়ন না দেওয়াকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, ক্ষমতাসীন দলটি যশোরে তাদের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতার আধিপত্যে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে যাচ্ছে। এটি সেখানকার রাজনীতিতে ভারসাম্য আনার একটি প্রক্রিয়া বলেও তাঁদের ধারণা।

গত ৩০ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে হায়দার গনী খানের নাম চূড়ান্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

যশোরের রাজনীতিতে গনী খানের তেমন প্রভাবের কথা কখনো শোনা যায়নি। নিজের কোনো বলয় কখনো তৈরি করার চেষ্টা করেননি। এমন ব্যক্তিকে মেয়র পদে হঠাৎ মনোনয়ন দেওয়ায় আওয়ামী লীগের অনেকেই অবাক হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলছেন, তাঁদের এখানকার রাজনীতি অনেকটা চট্টগ্রামের মতো। এখানে দুটি বলয় থাকলেও শাহীন চাকলাদারই মূল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। মেয়র পদে গনী খানকে মনোনয়ন দিয়ে শহরে এই বলয়ের একচ্ছত্র আধিপত্যে লাগাম টানার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে কাজী নাবিলের অংশের প্রভাব রাজনীতিতে বাড়বে। ফলে দুটি বলয়ের ক্ষমতার পার্থক্য খানিকটা কমবে। তাঁরা মনে করেন, চট্টগ্রামে রেজাউল করিম চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করে সাবেক মেয়র আ জ ম নাছিরের লাগাম টানা হয়েছে, যেন উপমন্ত্রী মহিবুল আলম চৌধুরীর অংশের প্রভাবও ঠিক থাকে।

সূত্র জানায়, যশোর পৌরসভার মেয়র পদে জেলা সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার বর্তমান মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদারসহ তিনজনের একটি নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠান। অন্যদিকে কাজী নাবিলের অনুসারী জেলা সভাপতি শহিদুল ইসলাম অন্য চারজনের নাম পাঠান। এ দুই তালিকার কোনোটিতেই হায়দার গনী খানের নাম ছিল না। পরে দলের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হকের সুপারিশে হায়দার গনী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। কাজী নাবিলের অংশের নেতারাও এতে সমর্থন জানান।

শহিদুল ইসলাম বলেন, হায়দার গনীর পক্ষে সুপারিশ করার জন্য বলেন বি এম মোজাম্মেল হক। তখন মৌখিকভাবে নাম সুপারিশ করা হয়। দলীয় সভানেত্রী (শেখ হাসিনা) গনী খানকেই মনোনয়ন দেন।

সম্প্রতি শাহীন চাকলাদার ও কেশবপুর থানার ওসি জসীম উদ্দীনের মধ্যে কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। কথোপকথনে থানায় বোমা মেরে বা ইটের ভাটায় বোমা মেরে ডাকাতি মামলা দিয়ে স্থানীয় এক পরিবেশকর্মীকে মামলায় ফাঁসানোর জন্য শাহীন চাকলাদার থানার ওসিকে নির্দেশনা দেন। এর আগে শহরের শহীদ মিনারে যশোর পুলিশ লাইনসের একজন কনস্টেবলকে মারধর করেন দলীয় কয়েকজন নেতা-কর্মী। এই ঘটনায় পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নেন। যশোরের পুলিশ সুপারকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। আবার ঘটনা তদন্তে শাহীন চাকলাদার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে যুক্ত করার পেছনে মূল ভূমিকায় ছিলেন বলে মনে করা হয়। সাম্প্রতিক এসব ঘটনা জহিরুল ইসলামের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলেছে কি না, তা নিয়েও দলের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা।

এদিকে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় হায়দার গনী খান যশোর বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় কাজী নাবিল আহমেদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত অনেক নেতাই তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তবে শাহীন চাকলাদারের অনুসারী কেউই ছিলেন না। গনী খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ১৯৬৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে আছি। নেত্রী আমাকে মূল্যায়ন করেছেন।’

জহিরুল ইসলাম চাকলাদার বলেন, ‘আমাকে কেন মনোনয়ন দেওয়া হলো না, তা আমার বোধগম্য হচ্ছে না। তারপরও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত আমি মেনে নেব। নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে গিয়ে আমি নির্বাচন করব না।’

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন