default-image

মামলা, গ্রেপ্তার ও সরকারের চাপ মোকাবিলায় সাংগঠনিক নানা তৎপরতা শুরু করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। তারা দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন, জেলায় জেলায় আইনি সহায়তা সেল গঠন এবং বিভিন্ন দূতাবাসে স্মারকলিপি দেওয়াসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত রোববার হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আগামী ২৯ মে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সারা দেশের ওলামা-মাশায়েখদের নিয়ে সম্মেলনের আগে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছিল। তবে নেতা–কর্মীদের গ্রেপ্তার বেড়ে যাওয়ায় শিগগিরই কর্মসূচি দেওয়ার বিষয়েও নেতাদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

হেফাজত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে হেফাজতের কমিটি রয়েছে। এর বাইরে সারা দেশে ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করাসহ সংগঠনকে এগিয়ে নিতে ‘সাংগঠনিক সেল’ গঠিত হয়। এই সেলের দায়িত্ব দেওয়া হয় যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী ও সহকারী মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসেনকে।

বিজ্ঞাপন

জুনায়েদ আল হাবিব প্রথম আলোকে বলেন, সাংগঠনিক সেলের মাধ্যমে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে সারা দেশের কমিটিগুলোর কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা হবে। এ জন্য রোববারের সভায় তিনজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

গ্রেপ্তার নেতা–কর্মীদের মুক্তি ও মামলা পরিচালনার জন্য আইনি সহায়তা সেল গঠনের সিদ্ধান্ত হয় ওই সভায়। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় দুই থেকে তিন সদস্যের আইনি সহায়তা সেল গঠন করা হবে আইনজীবীদের নিয়ে। হেফাজতের কার্যক্রম, মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।

হেফাজত নেতারা জানান, আগামী ২৯ মে যে ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তাতে হেফাজতে ইসলামের বাইরে চরমোনাই পীর, ছারছিনার পীর, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতসহ সমমনা ইসলামি দলগুলোর নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

হেফাজতে ইসলামের সহকারী অর্থ সম্পাদক আহসান উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘সম্মেলনে আমরা সবাইকে আমন্ত্রণ জানাব। হেফাজত অরাজনৈতিক সংগঠন। আকিদাগতভাবে কিছু বিষয়ে মতভেদ থাকলেও সবার উদ্দেশ্য ইসলামের জন্য কাজ করা। আশা করি সবাই আসবে।’

এদিকে হাটহাজারী মাদ্রাসায় রোববার বৈঠক শেষে ফেরার পথে ওই রাতেই আটক হন হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী। তিনি এখন ২০১৩ সালে ঢাকায় সহিংসতার মামলায় রিমান্ডে আছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় করা মামলায় প্রায় প্রতিদিন হেফাজত নেতা–কর্মীরা গ্রেপ্তার হচ্ছেন। প্রয়াত আমির আহমদ শফীকে ‘পরিকল্পিত হত্যার’ অভিযোগে করা মামলায় বর্তমান আমির জুনায়েদ বাবুনগরীসহ ৪৩ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পিবিআই।

এই অবস্থায় সারা দেশের হেফাজত নেতা–কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। কর্মসূচি দেওয়ার কথাও ভাবছেন সংগঠনটির নেতারা। এটা সরকারকে চাপে ফেলতে হেফাজত নতুন করে সংগঠনিক কার্যক্রমের উদ্যোগ নিয়েছে কি না, এই প্রশ্ন করা হলে হেফাজতের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারকে চাপে ফেলতে কিংবা সরকারবিরোধী আন্দোলনের জন্য নয়। যে লক্ষ্যে হেফাজত গঠিত হয়েছে, তার জন্য কাজ করা হচ্ছে। বরং সরকার হেফাজতকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলার জন্য পুরোনো মামলাগুলো সচল করছে। আট বছর আগের মামলায় নেতা–কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে।’ নতুন কর্মসূচির পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন,‘আমরা সারা দেশের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করছি। সভা করতে না পারলে শিগগিরই ভার্চ্যুয়াল সভায় পরামর্শ করে কর্মসূচি দেওয়া হবে। সেটা রমজানের মধ্যেও হতে পারে।’

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন