বিজ্ঞাপন

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, আহত শাহজাদা নগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। বৃহস্পতিবার জিলা স্কুলের মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে প্রভাব বিস্তার নিয়ে চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন নগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ও নগর সভাপতি রেজাউলের সমর্থকেরা। নগর সভাপতি রেজাউলের পক্ষে আছেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহসান।

দলীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন বরিশালে ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। এর কারণ মূল দলের নেতাদের বিরোধ। বরিশালে বিএনপির রাজনীতিতে নগর সভাপতি মজিবর রহমানের একচ্ছত্র আধিপত্য দীর্ঘদিনের। দলের মধ্যে এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিরোধিতা করেছেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক সাংসদ বিলকিস আক্তার জাহান, বরিশাল (দক্ষিণ) জেলা সভাপতি এবায়দুল হক ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আহসান হাবিব। মূলত মূল দলের এই দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়েছে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে।

বৃহস্পতিবার ছাত্রদলের দুই পক্ষের হাতাহাতির বিষয়ে বিএনপির নগর কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা বিব্রত। আমরা ভাবতে পারছি না দেশ ও দলের এই পরিস্থিতিতে কীভাবে এ রকম একটি সমাবেশে এ রকম ঘটনা ঘটানোর চিন্তা মাথায় আসে। এত বড় সমাবেশে যাঁরা এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

আগের কমিটি গঠনের সাত বছর পর ২০১৮ সালের ১৯ আগস্ট বরিশাল জেলা ও নগর ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি। ঘোষিত বরিশাল জেলা ছাত্রদলের ওই কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় যথাক্রমে মাহফুজুল আলম ও কামরুল হাসানকে। এ ছাড়া জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি করা হয় তারেক আল ইমরান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয় সোহেল রাঢ়ীকে। তবে সোহেল রাঢ়ী সে সময় পদ প্রত্যাখ্যান করেন।

পাশাপাশি বরিশাল নগর ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় যথাক্রমে রেজাউল করিম ও হুমায়ুন কবিরকে। এ ছাড়া ওই কমিটিতে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি করা হয় তরিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহামুদ হাসান ও সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয় এনামুল হাসানকে।

কমিটি ঘোষণার পর ওই দিন রাতেই পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা তা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেন এবং জেলা ও নগর বিএনপির কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরের দিন একই দাবিতে তাঁরা নগরে ঝাড়ুমিছিলের পাশাপাশি তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসানের ছবিতে অগ্নিসংযোগ করেন।

ছাত্রদলের একটি সূত্র জানায়, জেলা ও নগর দুই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকই মজিবর রহমান সরোয়ারের সমর্থক। কিন্তু সম্প্রতি নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং উপজেলা, পৌর কমিটি নিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে দেখা দেয় বিরোধ। এখন তা প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।

সংগঠন সূত্র জানায়, ৭ জানুয়ারি রাতে নগর ছাত্রদলের ৩০টি ওয়ার্ডের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটিতে নগর সভাপতি রেজাউল করীমের লোকজনকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ক্ষুব্ধ হন সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির। নগরের অধীনে বিএম কলেজ ও পলিটেকনিক কলেজ কমিটি নিয়ে একই বিরোধ দেখা দেয়। একইভাবে জেলা সভাপতি মাহফুজুল আলম নিজের লোকদের নিয়ে ১০ উপজেলা ও ৬ পৌর ছাত্রদলের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চালান এমন অভিযোগ ওঠে।

তবে নগর ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, এটা ছাত্রদলের কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না। সরকারি সমাবেশকে বানচাল করতে এটা করেছে। শাহজাদাকে কোপানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের কোনো দ্বন্দ্ব নয়। কর্মীদের মধ্যে ঝামেলা।’

নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির অবশ্য শাহজাদাকে কোপানোর ঘটনাকে সরাসরি সমাবেশে মারামারির জের বলেছেন। তিনি বলেন, ‘সভাপতির সঙ্গে আমার ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে মতবিরোধ আছে, কিন্তু দ্বন্দ্ব নেই। আর সমাবেশ পণ্ড করার রাজনীতি আমি করি না।’

সার্বিক বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান গতকাল শুক্রবার বলেন, ‘এটা সত্যি দুঃখজনক ঘটনা। আমাদের ভুলের কারণেই এসব হচ্ছে। তারপরও আমরা দেখছি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে।’

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন