একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট গঠন করেছিল বিএনপি। কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম থেকে বেরিয়ে এসেছে একটি অংশ। সেই অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোস্তফা মহসিন, সুব্রত চৌধুরী ও আবু সাঈদ।

আলোচনায় অংশ নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাকে অক্ষুণ্ন রাখা এবং গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে হলে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। তিনি বলেন, ‘যাঁরা দেশ স্বাধীনের জন্য লড়াই করেছি, তাঁদের দায়িত্ব হচ্ছে ইস্পাতদৃঢ় ঐক্য গড়ে দেশকে এই ফ্যাসিবাদের হাত থেকে রক্ষা করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা। দেশের মানুষের অধিকারগুলো ফিরিয়ে দেওয়া। সত্যিকার অর্থেই একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের পার্লামেন্ট তৈরি করা।’ জাতীয় নেতাদের আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করি।’

জাতীয় সমস্যা বা জাতীয় সংকট সমাধানের জন্য জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে উল্লেখ করে আ স ম আবদুর রব বলেন, এই সংকট উত্তরণে প্রয়োজন রাষ্ট্রের মেরামত ও সংবিধান অনুযায়ী প্রশাসন সংস্কার। এই সরকার প্রশাসনে যা করেছে, এটা রেখে কোনো নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে পারে না। সরকার যদি ভদ্রভাবে পদত্যাগ না করে, তাকে চলে যাওয়ার জন্য বাধ্য করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকার পতনের আন্দোলন করতে হবে।

জনগণ মাঠে নামার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে মন্তব্য করে আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘জনগণ পরিষ্কারভাবে জানতে চায়, আমরা কী করতে চাই, কীভাবে করতে চাই। কারণ গত ৫০ বছর তাদের ধোঁকা দিয়েছি। যা বলেছি, তার উল্টোটা করেছি। অতএব রাষ্ট্র মেরামত, সাংবিধানিক সংস্কার ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য আমাদের মাঠে নামতে হবে।’

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘যদি আমরা রাষ্ট্রকে ঠিক করে পরিচালিত করতে না পারি, তাহলে আমাদের সামনে ভয়াবহ ভবিষ্যৎ রয়েছে। জবাবদিহিমূলক সরকার ছাড়া জনগণ কিংবা রাষ্ট্রের উন্নতি হয় না। গত ১৩ বছর একটা সরকার আমাদের ঘাড়ে বসে আছে। যে সরকার জনগণের ভোট ছাড়া নিজেরাই নিজেদের নির্বাচিত করেছে। নিজেদের ইচ্ছেমতো দেশকে পরিচালিত করছে।’

ইফতার অনুষ্ঠানে জাসদের প্রেসিডিয়াম সদস্য তানিয়া রব, বিকল্প ধারা বাংলাদেশের (একাংশ) চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ব্যাপারী, গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফজলুল হক সরকার, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ কায়সার, জাসদের শরীফ নুরুল আম্বিয়া, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের কার্যকরী সদস্য শহীদ উদ্দিন মাহমুদ, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টির চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন মজলিস, বাংলাদেশ পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বাবুল চাখানি প্রমুখ বক্তব্য দেন।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন