জাপায় সমঝোতা টিকে থাকা নিয়ে সংশয়

বিজ্ঞাপন
default-image

সম্মেলনের মাধ্যমে দলে নেতৃত্ব সংহত করতে চান জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের। লক্ষ্য অর্জনের পথে তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেন রওশন এরশাদ। এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর পর নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে সমঝোতার ভিত্তিতে রওশনকে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা করা হয়। আর দলের চেয়ারম্যান হিসেবে জি এম কাদের বহাল থাকেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতা থাকবে কি না, তা নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। 

দলের প্রতিষ্ঠাতা এইচ এম এরশাদের জীবদ্দশাতেই এরশাদ ও রওশনকেন্দ্রিক দুটি পক্ষ তৎ​পর ছিল। গত জুলাই মাসে এরশাদের মৃত্যুর পরও তা সক্রিয় আছে। এখন দলের কেন্দ্রীয় সম্মেলন উপলক্ষে জাপার একটি অংশ রওশন এরশাদকে ঘিরে সক্রিয় হয়েছে। জাপার এই অংশ শুরু থেকেই জি এম কাদেরকে পছন্দ করছিল না। ইতিমধ্যে তাদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে তা এখনো প্রকাশ্য হয়নি। তারা সরকারের উচ্চ মহল থেকে সায় পাওয়া যায় কি না, সে অপেক্ষায় রয়েছে।

২৮ ডিসেম্বর জাপার জাতীয় সম্মেলন হবে। এ উপলক্ষে জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে আহ্বায়ক এবং মহাসচিব মসিউর রহমানকে সদস্যসচিব করে ১০১ সদস্যের প্রস্তুতি কমিটি করা হয়েছে। এ ছাড়া সম্মেলন বাস্তবায়নে নয়টি উপকমিটি এবং নির্বাচন কমিশনও গঠন করা হয়েছে। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিতে কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ (বাবলু), সৈয়দ আবু হোসেন (বাবলা) যুগ্ম আহ্বায়ক এবং রওশন এরশাদ, এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে সদস্য করা হয়েছে। নেতৃত্ব নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব হবে কি না—এই প্রশ্নে জি এম কাদের প্রথম আলোকে বলেন, রওশন এরশাদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত কথাবার্তা হচ্ছে। তিনি তাঁর সঙ্গেই আছেন এবং থাকবেন।

>২৮ ডিসেম্বর জাতীয় সম্মেলন। নেতৃত্ব সংহত করতে চান জি এম কাদের। একটি অংশ রওশন এরশাদকে ঘিরে সক্রিয়।

তবু সম্মেলনের আগমুহূর্তে হঠাৎ​ করেই জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে এরিক এরশাদ ও তাঁর মা বিদিশা সিদ্দিকী গণমাধ্যমে নানা অভিযোগ তোলায় দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংশয়-সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এতে রওশনপন্থী নেতাদের কারও হাত আছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা আছে দলে।

মহাসচিব পদে পরিবর্তন?

জাপার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্মেলনে মহাসচিব পদে পরিবর্তন আসতে পারে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ায় বর্তমান মহাসচিব মসিউর রহমান সরকারের আস্থা হারিয়েছেন। মহাসচিব পদে রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও ​ফখরুল ইমাম ও সৈয়দ আবু হোসেনের নাম নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচিত হচ্ছে। 

এ বিষয়ে জাপার সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাংসদ ফখরুল ইমাম প্রথম আলোকে বলেন, রাজনীতি করলে বড় পদের জন্য আগ্রহ সবার থাকে। তবে এ ব্যাপারে কাউন্সিলে যে সিদ্ধান্ত হবে, সেটাই চূড়ান্ত।

বিতর্কিত ধারা সংশোধন হচ্ছে না

দল পরিচালনায় ভাই এইচ এম এরশাদের পথেই হাঁটছেন জি এম কাদের। সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটি সূত্রে জানা গেছে, জাপার গঠনতন্ত্রে বিতর্কিত ধারা বলে পরিচিত ২০-এর ক ও খ উপধারা সম্মেলনে সংশোধন হচ্ছে না। দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের ধারাটি বহাল রাখার পক্ষে।

২০-এর ক ও খ উপধারায় চেয়ারম্যানের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা আছে, ‘...চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টির যেকোন পদে যেকোন ব্যক্তিকে নিয়োগ, যেকোন পদ হইতে যেকোন ব্যক্তিকে অপসারণ ও যেকোন ব্যক্তিকে তাঁহার স্থলাভিষিক্ত করিতে পারিবেন।’ এ বিষয়ে জি এম কাদের বলেন, ‘যেখানে আমাদের সংবিধানে এবং জাতীয় সংসদেই উন্মুক্ত বা বাধাহীন গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ নেই, সেখানে আমরা এ দায়িত্ব নেব কেন? দলে স্থিতিশীলতা এবং শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এ ধারাটি রাখতে হবে।’

জাপার লক্ষ্য দ্বিতীয় দল হওয়া

এবারের সম্মেলনে জাপার লক্ষ্য রাজনী​তিতে দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়া। আওয়ামী লীগের সঙ্গে বোঝাপড়ার মাধ্যমে নির্বাচন করে সংসদে বিরোধী দলের আসনে আছে জাতীয় পার্টি। কিন্তু দলের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, এটা তাঁদের সত্যিকারের অবস্থান নয়।

জি এম কাদের বলেন, ‘নব্বইয়ের পর আমরা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পর ৩ নম্বরে চলে গেছি। এখন দ্বিতীয় দল হতে চেষ্টা করব।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন