বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ তিনি (আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী) সামগ্রিকভাবে যে কথাটা বলেছেন, সেটাই তিনি (রাষ্ট্রদূত) মিস কোট (ভুলভাবে উপস্থাপন) করেছেন।’

ডিকাব অনুষ্ঠানে জার্মান রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি যে উদ্ধৃতি পড়েছি, তা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। যেখানে বলা হয়েছে, আমি দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। এমন শব্দ চয়ন সত্য নয়। এই উদ্ধৃতি নিয়ে আমি অসন্তুষ্ট।’

গত ১৭ মার্চ গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন জার্মান রাষ্ট্রদূত। বৈঠক শেষে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তাদের আলোচনায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আগামী নির্বাচন, মানবাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয় উঠেছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের বিষয়ে জার্মান রাষ্ট্রদূত কী বলেছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে খসরু বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র সম্বন্ধে বিশ্বব্যাপী সবাই অবগত আছে। এখানে নতুন করে বলার কিছু নেই। এগুলো নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনাও হচ্ছে এটা তো আপনারা জানেন। এসব ব্যাপারে ওনারা কনসার্ন। বাংলাদেশের বিষয় নিয়ে বিশ্বব্যাপী যে আলোচনা হচ্ছে, তারা তো তার একটা অংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, আমেরিকা বলেছে, ব্রিটেন বলেছে, সবাই বলছে।’

আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নবগঠিত আংশিক কমিটির সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলামসহ কমিটির নেতাদের নিয়ে বিএনপির মহাসচিব শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। পরে কবরের সামনে নতুন ছাত্র নেতৃত্ব মুঠবদ্ধ হাত উঁচিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে শপথবাক্য পাঠ করেন।

এই সময়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুজ্জামান, ফজলুল হক মিলন, আজিজুল বারী, আমিনুল হক, হাবিবুর রশীদ হাবিব, আকরামুল হাসান, ছাত্রদলের সদ্য বিদায়ী সভাপতি ফজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পরে বিএনপি মহাসচিব আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব তারা অতি অল্প সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে সারা দেশে ছাত্রদলকে একটি শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে তারা তাদের অক্ষুন্ন রাখবে এবং সামনের দিকে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাবে।’

‘দেশে কোনো সরকার নেই’

ঢাকা কলেজের ছাত্র ও ওই এলাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষের বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এই সংঘর্ষের (নিউমার্কেট এলাকায়) ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে আসলে দেশে কোনো সরকার নেই। এই সরকার একটা সম্পূর্ণ ব্যর্থ সরকারে পরিণত হয়েছে এবং তারা এই রাষ্ট্রকেও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। তাদের চোখের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সংঘর্ষ হয়েছে দুটি পক্ষের মধ্যে। সেটাকে তারা (সরকার) বন্ধ করার জন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।’

উপরন্তু তাদের কর্মকর্তারা যে বিভিন্নভাবে বক্তব্য দিচ্ছে যে তারা কোনো পক্ষেই ছিলেন না, নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছেন। নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে তারা এই সংঘর্ষকে আরও বেশি করে ছড়িয়ে দেওয়ায় সহযোগিতা করেছে। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাই এর জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী। ওই ঘটনায় দুজন মারা গেছেন—এই মৃত্যুর জন্য, এই হত্যার জন্য তারাই দায়ী।

‘তাঁদের অপরাধ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা’

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে আমাদের অপরাধটা কী? তাঁদের অপরাধ হচ্ছে সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধ। এ দেশে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছেন, এই দেশে তাঁরা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন, এই দেশকে তাঁরা দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের যে লক্ষ্যগুলো ছিল, সেই লক্ষ্যগুলো ধূলিসাৎ করে দিয়ে তাঁরা আজকে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।’

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন