বিদ্যমান আইনে কেবল নতুন জেলা পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে প্রশাসক নিয়োগের বিধান থাকলেও চলমান কোনো পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রশাসক নিয়োগের বিধান নেই। বিলে জেলা পরিষদের মেয়াদ শেষ হলে প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ যুক্ত করা হয়েছে।

এ বিধানের বিরোধিতা করে বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, জেলা পরিষদ এখন একটি দুর্নীতির আখড়া। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রশাসকের বিধান রাখা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদেও এ বিধান করা হয়েছে। আইনটি ত্রুটিপূর্ণ।

হারুনুর রশীদ বিলটি প্রত্যাহারের দাবি করে বলেন, সরকার জেলা পরিষদকে কার্যকর প্রতিষ্ঠান করতে চাইলে নতুন করে আইন আনতে হবে।

গণফোরামের মোকাব্বির খানও বিলটিকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মত দেন।
জাতীয় পার্টির (জাপা) সাংসদ পীর ফজলুর রহমান বলেন, প্রশাসক নিয়োগের বিধান সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী।

জাপার ফখরুল ইমাম বলেন, এ বিল পাস হওয়ার আগেই বাতিল হয়ে যেতে পারে। সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদ যদি আমলে নেওয়া হয়, তাহলে এটা বাতিল হয়ে যাবে। সংবিধানের এ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রশাসনের সব পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক বলেন, জেলা পরিষদের কাজ কী, তা আইনে বলা নেই। এই সংগঠনকে শক্তিশালী করারও দাবি জানান তিনি।

জাপার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া এক দিনও জেলা পরিষদ রাখা ঠিক হবে না। সংবিধানে বলা আছে, নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া করারোপ করা যাবে না। তিনি প্রশ্ন রাখেন, তাহলে ভোট না করে কেন প্রশাসক থাকবে?

বিরোধী সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, পৌরসভা বিল পাসের সময় তিনি বলেছিলেন, সব পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ হয় না। অনেকে মেয়াদ শেষ করার পর মামলা করেন, ২০ বছর ধরে বসে থাকেন। সেটা যাতে না হয়, সে জন্য প্রশাসক নিয়োগের বিধান প্রয়োজন। এটা থাকলে কারও মামলা করার ইনটেনশন থাকবে না।

পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। এর আগের বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানো ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি করা হয়।

বিলে বলা হয়েছে, জেলা পরিষদে একজন চেয়ারম্যান থাকবেন। সংশ্লিষ্ট জেলার মোট উপজেলার সমানসংখ্যক সদস্য থাকবেন এবং চেয়ারম্যানসহ সদস্যদের মোট সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ (নিকটবর্তী পূর্ণসংখ্যা) ও কমপক্ষে দুজন নারী সদস্য নিয়ে জেলা পরিষদ গঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র এবং ক্ষেত্রবিশেষে সিটি করপোরেশনের মেয়রের প্রতিনিধি পদাধিকারবলে সদস্য হবেন।

সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সদস্য হিসেবে পরিষদের সভায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে তাঁদের ভোটাধিকার থাকবে না।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন