টিকা অব্যবস্থাপনার কারণে অনেকে মারা গেছেন: মান্না

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না
ফাইল ছবি

করোনা মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে। টিকা ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার কারণে অনেকে মারা গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেছেন, এরা (সরকার) মানুষের জান বাঁচাতে পারবে না, জীবন বাঁচাতে পারবে না। বরং মানুষকে জেলে দেওয়া, নির্যাতন করা, নির্বিচারে গুম ও খুন করতে পারে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের এক বিক্ষোভ সমাবেশে আজ এ কথা বলেন মাহমুদুর রহমান মান্না। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর মুক্তির দাবিতে এক সাংবাদিক সমাবেশে নেতারা এসব বলেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, দৈনিক নয়াদিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিনসহ ডিইউজে, বিএফইউজে ও সাব-এডিটর কাউন্সিলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীকে মিথ্যা অভিযোগে যাঁরা এত দিন ধরে গ্রেপ্তার করে রাখতে পারেন, তাঁদেরও পতন হবে। অধ্যাপক আসিফ নজরুল একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি কারও নাম বলেননি। তাঁদের গায়ে লাগল কেন?

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ঐতিহাসিক সত্যের প্রমাণ লাগে না। আপনারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন কি না? আপনার পরিবার মুক্তিযুদ্ধ করেছে কি না, সেটাই এখন প্রমাণসাপেক্ষ ব্যাপার। সত্যিকার অর্থে আপনারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন নাকি বৃহত্তর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, সেটাই এখন প্রধান টপিক।...যাঁরা সত্যিকার অর্থে মুক্তিযোদ্ধা, তাঁদের অপমান করছেন, তারা (আওয়ামী লীগ) দুর্নীতি ও লুটপাটের মহোৎসব চালাচ্ছে।’

রিজভী বলেন, লুটপাট ও দুর্নীতি আড়াল করতেই সরকার একের পর এক ইস্যু তৈরি করে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিরোধী মতের রাজনৈতিক দলগুলো নিষিদ্ধ করারও পাঁয়তারা করা হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের আমলে সাগর-রুনিসহ ৪২ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন উল্লেখ করে সাংবাদিক নেতারা বলেন, সাংবাদিক হত্যার কোনো বিচার হচ্ছে না।
দৈনিক নয়াদিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন বলেন, বিভিন্ন কালো আইন ও হামলা করে, মামলা দিয়ে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে।

বিএনপি সমর্থিত ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী বলেন, যে দেশে গণতন্ত্র থাকে না, সে দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও থাকে না। গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ এমন পর্যায়ে এসে ঠেকেছে যেখানে সত্য প্রকাশে প্রতিনিয়ত বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘আবদুস শহিদের অকালমৃত্যু আমাদের জন্য খুবই কষ্টদায়ক। তাঁর মৃত্যু আমাদের জন্য এ অপূরণীয় ক্ষতি। সাংবাদিক সমাজ তাঁর অবদানের কথা কোনো দিন ভুলবে না। বাংলাদেশে মুক্ত সাংবাদিকতার বৈরী পরিবেশের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সম্প্রতি অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা এবং মানহানি মামলা একটা ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।’
কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, দেশে বাক্‌স্বাধীনতা নিয়ে আজ চরম সংকটে লেখক-সাংবাদিকেরা। এখন কথা বলতেও ভেবেচিন্তে বলতে হচ্ছে। পরিস্থিতির কারণে শুধু গণমাধ্যমই নয়, সাধারণ নাগরিকেরাও কিছু বললে বা লিখলে সাতপাঁচ ভেবেই বলে।

কোনো কথা সরকারের বিরুদ্ধে যায় কি না, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে যায় কি না, এটি এখন বড় সংশয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার ফরিদ আহমদসহ আরও অনেকে।