বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‌‘আমি এটাও বলে এসেছি, আমরা নিজেরা ভ্যাকসিন তৈরি করতে চাই। ভ্যাকসিন তৈরি করার যে বাধাগুলো আছে, সেগুলো আপনাদের সরিয়ে দিতে হবে। উন্মুক্ত করতে হবে। এটা জনগণের প্রাপ্য। জনগণের সম্পদ হিসেবে দিতে হবে। সারা বিশ্বের কোনো মানুষ যেন ভ্যাকসিন থেকে দূরে থাকতে না পারে। আমাদের সুযোগ দিলে আমরা উৎপাদন করব। আমরা বিশ্বে দিতে পারব। সে সক্ষমতা আমাদের আছে। জমিও নিয়ে রেখেছি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ইউনেসকোতে বঙ্গবন্ধুর নামে পুরস্কার প্রবর্তন দেশের জন্য সম্মানজনক। বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে গড়ে তুলছিলেন। তিনি দ্বিতীয় বিপ্লবের ঘোষণা দেওয়ার পর ১৯৭৫ সালে তাঁকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। এটি ছিল দেশের স্বাধীনতাকে ব্যর্থ করার প্রচেষ্টা। পরবর্তী ২১ বছর দেশ সেভাবেই পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের যে উন্নয়ন করা যায়, তা আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে। ভালো কাজ কেউ চোখে না দেখলে কিছু করার নেই।

সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন আমরা পিছিয়ে নেই। আমি ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশের জনগণকে, তাঁরা বারবার আমায় ভোট দিয়েছেন। সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। এক দশকের ভেতরে বাংলাদেশের পরিবর্তন সারা বিশ্বে একটা মর্যাদা পেয়েছে। বাংলাদেশের কাউকে বাইরে যেয়ে কথা শুনতে হয় না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘৭৫–এর পর আমরা কী দেখেছি? ১৯টা ক্যু হয়েছে। হাজার সেনাবাহিনীর অফিসার ও সৈনিক, বিমানবাহিনীর অফিসার ও সৈনিক এবং সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। কারাগারে ফেলে রাখা হয়েছে, নির্যাতন চলেছে। গুলি-অস্ত্র, দুর্নীতি এটাই ছিল জননীতি। এর বাইরে একটা দেশকে যে উন্নত করা যায়, সেদিকে কোনো আন্তরিকতাই আমরা দেখিনি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিজ্ঞানে পড়ার প্রতি দেশের মানুষের আগ্রহ ছিল না। গবেষণার কোনো বিশেষ বরাদ্দ ছিল না। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়।

বঙ্গবন্ধুর নামে পুরস্কার চালু করায় ইউনেসকোর সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এই পুরস্কার এ বছর পেয়েছে উগান্ডার মোটিভ ক্রিয়েশন নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। একদিন বাংলাদেশের কোনো উদ্যোক্তা এই পুরস্কার পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন সংসদ নেতা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‌‘আমার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকসহ আমাদের কিছু ইয়ং সংসদ সদস্য সবাই মিলে ইয়ংবাংলা স্টার্টআপ প্রোগ্রাম নিয়েছে। এই প্রোগ্রামের জন্য আমরা বিশেষ বরাদ্দও রেখেছি। ছেলেমেয়েরা যদি কেউ উদ্যোগ নিতে চায়, আমরা তাদের পাশে দাঁড়াব। অনলাইনে কেনাবেচা, ই-কমার্স, টেন্ডার এগুলো তো হয়েছে বাংলাদেশে। সামনে আরও সময় আছে। আরও হবে। একদিনে তো হয় না। ধাপে ধাপে করতে হয়।’

শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন অঙ্গনে অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আর্থিক সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন করে থাকে ইউনেসকো। প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধুর নামে এই পুরস্কার চালু করা হয়েছে। এই পুরস্কার চালু করায় ইউনেসকোকে ধন্যবাদ জানাতে আজ জাতীয় সংসদে ১৪৭ বিধিতে সাধারণ প্রস্তাবটি আনেন সরকারি দলের সাংসদ আবদুস শহীদ। প্রস্তাবে বলা হয়, জাতীয় সংসদে বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে ইউনেসকোকে বাংলাদেশের সব জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানানো হোক।

এই প্রস্তাবের ওপর অন্যদের মধ্যে সরকারি দলের সাংসদ মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আমির হোসেন আমু, বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সরকারি দলের সাংসদ নুরুল ইসলাম নাহিদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ওয়াসিকা আয়শা খান, কাজী নাবিল আহমেদ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক, বিএনপির হারুনুর রশীদ, জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজী, পীর ফজলুর রহমান প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন