বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে রাশেদ খান মেনন বলেন, সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানো হচ্ছে বাধাহীনভাবে। আমাদের গর্ব কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম এবং আমাদের জাতীয় সংগীতকেও অবমাননা করা হচ্ছে। আর বিভিন্ন সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তো বিদ্বেষ আছেই। এসব শক্তিকে নিয়ন্ত্রণে কিছুই করা হচ্ছে না।

মেনন বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তি নানাভাবে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যের বিরোধিতা করে হাটহাজারীতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব চালিয়ে এর প্রমাণ রেখেছে ধর্মীয় উগ্রবাদী শক্তি। মেনন বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো উপমহাদেশজুড়েই সাম্প্রদায়িক শক্তির একটা উত্থান লক্ষ করা যাচ্ছে। এদের প্রতিরোধে গণতান্ত্রিক শক্তির সম্মিলিত প্রয়াস দরকার। এখানে আপসের কোনো সুযোগ নেই।

আজকের ওয়বিনারে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এ দেশে সামরিক শক্তি ক্ষমতা দখল করে। দেশের সুন্দর সংবিধানকে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর টুকরো টুকরো করে ফেলে সামরিক সরকারগুলো। তাদের প্রত্যক্ষ মদদে দেশের সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটে।

সাংসদ তোফায়েল আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার আবার সংবিধানের মূল চেতনা ফিরিয়ে এনেছে।

অনুষ্ঠানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত ঐক্য পরিষদ গঠনের পটভূমি ও এর লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। রানা দাশগুপ্ত বলেন, ১৯৮৮ সালে এরশাদ সরকার সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপনের আগে এর প্রতিবাদে ঐক্য পরিষদ গঠিত হয়। একটি মানবিক সংগঠন হিসেবে বৈষম্য রুখতেই এর জন্ম।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরে এসেছে। কিন্তু সংবিধানে এখনো সাম্প্রদায়িকতার আবরণ রয়ে গেছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর অর্পিত সম্পত্তি আইন বাতিল হয়েছে। তবে এর সুফল এখনো মেলেনি পুরোপুরিভাবে। চাকরি ও পদায়নের ক্ষেত্রে সমতা এসেছে। কিন্তু সামাজিক ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতার উপস্থিতি ব্যাপকভাবেই দেখা যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি নিম চন্দ্র ভৌমিক বলেন, সমাজে ও রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে। এরা নানা সুযোগ নিচ্ছে। একটি অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বার্থেই ১৯৭২-এর সংবিধানের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন দরকার।

অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সুভাষ সিংহ রায় বলেন, নব্য আওয়ামী লীগাররা বঙ্গবন্ধুকে চেনে না। তারা অসাম্প্রদায়িক বঙ্গবন্ধুকে জানে না।

আজকের ওয়েবিনারে বক্তব্য দেন সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথ, মনোরঞ্জন শীল গোপাল, ভোরের কাগজ-এর সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্মল রোজারিও।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন