বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জাহাঙ্গীর কবির নানক নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মেয়রপ্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কারী। গত রোববার সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগের এক কর্মিসভায় তৈমুর আলম খন্দকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুড়ে বালি।’

ওই ঘোষণার দুদিন পর সিদ্ধিরগঞ্জের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম। ওই সময় তৈমুর অভিযোগ করেন, নানক সাহেব ঘুঘু দেখানোর ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে তিনি ঘুঘু ও ঘুঘুর ফাঁদ দেখা শুরু করেছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে বৈঠক শেষে বের হলে উপস্থিত সাংবাদিকদের জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘নির্বাচনের আর মাত্র দুদিন বাকি। শুক্রবার থেকে প্রচারণা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর আগেও আমরা বারবার এসেছিলাম জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলতে। আমরা বলেছি, যে কোনো কিছুর বিনিময়ে হলেও শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচনটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে বিএনপি দলীয় প্রার্থী, যদিও তিনি নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাবি করছেন তিনি। নির্বাচনের দিনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে, যেসব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে-সেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে যাঁদের জন্য ঝুঁকির সৃষ্টি হবে, তাঁদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’

বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায় তৈমুর আলম খন্দকার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ‘নারায়ণগঞ্জের ভোটার না, তাঁরা ঢাকার মেহমান। তাঁরা মেহমানদারি করতে এসে নির্বাচনকে প্রভাবিত করছেন। তাঁরা প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে ঘুঘুর ফাঁদ দেখাচ্ছেন। প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নেতা-কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ পাঠাচ্ছেন। তাঁদেরকে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে। এটা আচরণবিধির লঙ্ঘন। তাঁরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সমাবেশ করছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাঁদের ব্যাপারে অন্ধ।’

ডিসি-এসপির সঙ্গে বৈঠক নিয়ে তৈমুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে নানক বলেন, ‘আমরা কোনো গোপন বৈঠক করিনি। আমরা প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকেছি, প্রধান ফটক দিয়েই বের হচ্ছি। এখানে গোপনীয় কোনো বিষয় নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন হচ্ছে। আমরা একটি দল করি, দলের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছি। আমরা তো আসতেই পারি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলাপ করতে। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু-সুন্দর ও নিরপেক্ষ হয় এবং কোনোভাবেই যাতে নারায়ণগঞ্জের শান্তিপ্রিয় মানুষের শান্তি বিঘ্নœনা ঘটে—এই আবেদন তো আমরা রাখতেই পারি জেলা প্রশাসকের কাছে।’

বৈঠকের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ্ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নানক সাহেবসহ তিনজন এসেছিলেন। তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি ওয়ার্ড ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বেশি করে ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি ও র‌্যাব মোতায়েনের কথা বলেছেন। তাঁদের ভাষ্য, সুষ্ঠু ভোট হলে তাঁদের প্রার্থী জয়ী হবেন। এ কারণে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।’

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা যাতে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে সে জন্য অভিযান জোরদার করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বাধীন দল। তাঁদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন