default-image

ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার পালাবদল ঘটছে। ক্ষমতার এই পালাবদলে অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন, মুক্ত বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও গভীরভাবে কাজ করার সুযোগ হবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার পালাবদলে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম আজ রোববার এ আশাবাদের কথা বলেন।

শাহরিয়ার আলম গণমাধ্যমকে বলেন, গত ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ব্যাপ্তি আর গভীরতা—সেটা দুই দলের সঙ্গেই। এরই মধ্যে দুজনকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। দুজনকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে।

শাহরিয়ার আলম তাঁর দপ্তরে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এই নির্বাচনের ফলাফলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন হবে না। বরং আরও কিছু অভিন্ন ইস্যুতে গভীরভাবে কাজ করার সুযোগ হবে। বিশেষ করে নিকট অতীতে আমরা দেখেছি বাংলাদেশের জন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এজেন্ডা অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন মুক্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো ভূমিকা রেখেছে। এই বিষয়গুলোতে নতুন প্রশাসন আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করবেন। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি ও ক্ষমতাধর রাষ্ট্র। আমরা চাইব আন্তর্জাতিক এ বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকুক।’

বিজ্ঞাপন

ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদায় নেওয়ায় ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে (আইপিএস) যুক্ততার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সংকটে পড়তে পারে কি না, জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটার সঙ্গে নির্বাচনের ফলাফলের কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে প্রশ্ন থাকবে। ইন্দো-প্যাসিফিকের অর্থনৈতিক উপাদানের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পৃক্ত।

বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরতের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘নতুন প্রশাসন দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত তাদের নীতি কেমন হবে, সেটা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেখেছি। বিশেষ করে যে প্রশাসনে যে পরিবর্তনই আসুক না কেন, আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, কোনো খুনিকে যুক্তরাষ্ট্রের মতো গণতান্ত্রিক দেশ আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবে না। অতীতে এই দাবি ছিল, সামনেও দাবিটি জোরালোভাবে থাকবে। আমাদের আশা থাকবে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের দাবি ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে। ওই খুনিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি না করা পর্যন্ত দাবিটি অব্যাহতভাবে করে যাব।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টিকফা সই, দেশটিতে তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘টিকফাতে সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের কোনো সুবিধা ছিল না। তবে ভবিষ্যতে আমরা দেখব, কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শুল্ক কিংবা শুল্কমুক্ত সুবিধা যেভাবেই থাকুক না কেন, মানের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক বিদেশি ক্রেতাদের কাছে অপরিহার্য পণ্যে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পণ্যের মান ও দাম মিলিয়ে আমাদের দক্ষতা যে জায়গায় পৌঁছেছে, আমরা অবশ্যই আত্মবিশ্বাসী।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে বারাক ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে যে পর্যায়ে সম্পর্ক ছিল, পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একই ধরনের সম্পর্ক লক্ষ্য করেছি। তৃতীয় পক্ষ, গণমাধ্যম এ নিয়ে সমালোচনা করতে পারে, অনেক কিছু মনে করতে পারে। তবে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতার কোনো কমতি দেখি না।’

মিয়ানমারের নির্বাচনে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চির দল এনএলডি ক্ষমতায় ফিরতে যাচ্ছেন। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নতুন কিছু ঘটতে যাচ্ছে না এমন এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যাশা তো আমাদের করতেই হবে। হতাশ হয়ে গেলে চলবে না।’

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রত্যাশিত ফল পাইনি, এটা সত্যি। তবে আমরা আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকে বিশেষ করে আঞ্চলিক দেশগুলোকে এবং জাতিসংঘকে বলেছি এটা তাদের দায়িত্ব। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জায়গা থেকে জেডব্লিউজির বৈঠক কোভিড-১৯ ও নির্বাচনের কারণে করতে পারিনি। এই নির্বাচনের পর যেইই ক্ষমতায় আসুক, আমরা তাদের সঙ্গে বসব। অতীতে যে চুক্তিগুলো হয়েছে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। সেই সঙ্গে আইসিজে যে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, সে অনুযায়ী মিয়ানমার সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0