default-image

ঢাকা ও সিরাজগঞ্জের উপনির্বাচনে বিএনপির দুই প্রার্থী বাধার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছে দলটি। বিএনপির অভিযোগ, ঢাকায় অন্তত তিন জায়গায় ধানের শীষ প্রতীকের পূর্বনির্ধারিত স্থানে সভা করতে পারেননি দলীয় প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। আর সিরাজগঞ্জের প্রার্থী সেলিম রেজাকে তিন দিন ধরে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে বৈঠকে এসব অভিযোগ করে বিএনপির প্রতিনিধিদল।

বিজ্ঞাপন

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম ও কবিতা খানম; ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার, নাজিম উদ্দিন আলম, ঢাকা–১৮ আসনের প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

সিরাজগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী সেলিম রেজা ২৫ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনে দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলেন, ২৩ অক্টোবর তাঁর গ্রামের বাড়ি চালিতাডাঙ্গায় বাবার কবর জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। ওই দিন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ মিলিতভাবে তাঁর বাড়ি ঘেরাও করে তাঁকেসহ নেতা-কর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখে। তিন দিন ধরে তিনি অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। বাড়িতে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, বের হতে গেলে মারধর করা হচ্ছে। তিনি স্থানীয় প্রশাসন এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন। কিন্তু কোনো সহযোগিতা পাননি।

এ পরিস্থিতিতে সেলিম রেজা প্রাণনাশের আশঙ্কা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনী প্রচার চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানান।

এদিকে ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিব হাসান ২২ অক্টোবর বিমানবন্দর পুলিশ ফাঁড়িতে যান। এ সময় ফাঁড়ির ইনচার্জ মেহেদি হাসান তাঁকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান, যা নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের শামিল। এর কিছু ছবিও তিনি জমা দেন।

এস এম জাহাঙ্গীরের অভিযোগ, এ ছাড়া ২৪ অক্টোবর মধ্যরাতে উত্তরার রানাভোলা এলাকায় বিএনপির নেতা মোস্তফা জামানের বাড়িতেও হামলা হয়। এ ব্যাপারে পরদিন তুরাগ থানায় জিডি করেন মোস্তফা জামান। তিনি অভিযোগ করেন, মুখোশ পরা অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৪০ জন মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে বাড়িতে হামলা করে, অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে।

বিএনপির অভিযোগ, এর বাইরে দক্ষিণখান গার্লস স্কুল রোড, জয়নাল মার্কেট ও উত্তরার কোটবাড়ী এলাকায় ধানের শীষের পূর্বঘোষিত সভা করতে দেননি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। সভাস্থল তাঁরা দখলে নিয়ে বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মারধর করেন। পূর্বঘোষিত সভার কথা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানোর পরও তাঁরা সভা করতে পারেননি।

বিজ্ঞাপন

বৈঠক সূত্র জানায়, বিএনপির নেতা আবদুস সালাম সিইসিকে বলেন, একটু আগে ঢাকা–১৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর স্ত্রী গণসংযোগ করতে গেছেন। সেখানে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন তাঁর সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন, যাতে গণসংযোগ করতে না পারেন। সিরাজগঞ্জের বিএনপির প্রার্থীকে ঘর থেকেই বের হতে দেওয়া হচ্ছে না, এভাবে নির্বাচন হতে পারে না।

ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি প্রতিনিধিদলের মোটা দাগে তিনটি অভিযোগ ছিল—পুলিশের অসহযোগিতা বা অসহায়ত্ব, বিএনপি প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা আর আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করা। তিনি বলেন, সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠানে যা যা করা দরকার, নির্বাচন কমিশন তা করবে। এ বিষয়ে প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

মন্তব্য পড়ুন 0