default-image

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেলা কমিটি তদন্ত করুক, তা চান না আবদুল কাদের মির্জা। তাঁর দাবি, এ তদন্তের দায়িত্ব দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীকে দেওয়া হোক।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ফেসবুক লাইভে এসে এ কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই কাদের মির্জা, যিনি স্থানীয় দলীয় নেতা ও সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা বক্তব্য দিয়ে এখন দেশজুড়ে আলোচিত।

দুই দফা সংঘর্ষে দুজনের মৃত্যু নিয়ে কোম্পানীগঞ্জে উত্তাপের মধ্যে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জা বলেন, ‘আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদেরের কাছে আবেদন, আপনি আমাদের এই ডিভিশনের দুইজন নেতা আছে একজন হচ্ছে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ সাহেব, আরেকজন আমাদের চাঁদপুরের সুজিত রায় নন্দী। এই দুইজনকে দল থেকে তদন্ত দেন।’

বসুরহাটে উত্তেজনার শুরু ৩১ ডিসেম্বর থেকে। ওই দিন আবদুল কাদের মির্জা পৌর নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণাকালে নির্বাচন, জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি, ফেনী ও নোয়াখালীর দুই সাংসদের বিরুদ্ধে অপরাজনীতি এবং টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজির নানা অভিযোগ তোলেন। পরে তিনি ভাই ওবায়দুল কাদের ও ভাবির বিষয়ে মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন। এরই মধ্যে ওবায়দুল কাদেরের অনুসারী দাবি করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমানের (বাদল) নেতৃত্বে কাদের মির্জাবিরোধী একটি পক্ষ মাঠে নামে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি চাপরাশিরহাট বাজারে মিজানুরের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান মির্জার অনুসারীরা। সে সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন স্থানীয় সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির। গত মঙ্গলবার রাতে আবার দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে আলাউদ্দিন নামে আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ হত্যাকাণ্ড ও সংঘর্ষের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন। বুধবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন তৈরি করতে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটি এলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এতে আপত্তি জানিয়ে তাঁর ভাই কাদের মির্জা বলেছেন, ‘এখান থেকে তদন্ত দিলে একরাম চৌধুরী, নিজাম হাজারীরা প্রভাবিত করবে। না হয় ডিজিএফআই আছে, এনএসআই আছে, তারা তদন্ত করে এ ঘটনার সঙ্গে আমার কিংবা আমার কোনো কর্মী জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নিক। কিন্তু আজকে মুজাক্কির ও আলাউদ্দিনের হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার ষড়যন্ত্র চলছে। এখানে জজ মিয়াদের ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র চলছে। এটা কিন্তু কোম্পানীগঞ্জের মানুষ মেনে নেবে না।’

বসুরহাট পৌরসভার কার্যালয়ে বসে ফেসবুক লাইভে আসেন কাদের মির্জা। এদিনের বেশির ভাগ সময়ই পৌরসভা ভবনে অবস্থান করেন তিনি। রাত ১১টার দিকেও পৌরসভা ভবনের আশপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমানের গ্রেপ্তার নিয়েও কথা বলেছেন কাদের মির্জা। তিনি বলেন, ‘অকারণে এখানে কাউকে গ্রেপ্তার করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা হোক, এটা আমি চাই না। বাদলকে গ্রেপ্তার করেছে, এটার জন্য আমি খুশি নই। রাজনীতি করলে মামলা, গ্রেপ্তার এগুলা রাজনীতিবিদদের জন্য এমন কঠিন বিষয় না। এটা জাতীয়ভাবে হস্তক্ষেপ করতে হবে। হস্তক্ষেপ করে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।’

অতীতের জন্য ক্ষমা চেয়ে নতুন উদ্যমে কাজ করার ঘোষণা দিয়ে কাদের মির্জা বলেন, ‘আমি সাহস করে সত্য কথা বলব। আমি বিষয়টা নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিব্রত করতে চাই না। ওনার সাথে আমার দুইবার কথা হয়েছে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে। আমি এখন পর্যন্ত ওনার সাথে দেখা করি নাই। আমি চাই এখানে সবাই মিলে দল করুক সুসংগঠিতভাবে।’ তিনি বলেন, ‘যাদের এখানে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জয়লাভ করার অবস্থা নাই, দলে কোনো ত্যাগ নাই—এ ধরনের ব্যক্তিরা, স্বার্থান্বেষী মহল যারা নোয়াখালীর টেন্ডারবাজির সাথে জড়িত, তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফেনী, নোয়াখালী, সোনাগাজী, সুবর্ণচর, কবিরাহট ও চরাঞ্চল থেকে অস্ত্র এনে আমার পৌরসভায় হামলা করেছে। এ সময় জানালা দিয়ে আমাকে গুলি করা হলো। গুলিটা লেগেছে আমার সাথে থাকে একটা ছেলে, তার পেটে লেগেছে। সে ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছে।’

মঙ্গলবার রাতের গোলাগুলিতে নিহত আলাউদ্দিনের প্রসঙ্গে কাদের মির্জা বলেন, ‘এখানে একটা সিএনজিচালক সে কোত্থেকে এসেছে জানি না। আমাদের সকল নেতা–কর্মী নিরস্ত্র। আমি এখানে কোনো অস্ত্র দিইনি। আমার এখানে কোনো অস্ত্র ছিল না।

পুলিশ এসেছে আমাকে রক্ষা করার জন্য। সেখানে পুলিশ এবং তারা (মিজানুরের অনুসারীরা) সংঘর্ষ করে। এই ছেলে (আলাউদ্দিন) মিজানুর রহমান বাদলের লোক যদি হয়ে থাকে, সে আমার পৌরসভার এখানে কেন আসবে? এটা হলো আমার প্রশ্ন। হয়তো সে পথচারী, তাকে হত্যা করে পরিস্থিতিটাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য এটা একটা ষড়যন্ত্র।’

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন