default-image

যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার সরকারের উদ্যোগ ‘কখনো সফল’ হবে না বলে দাবি করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের দেওয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ দাবি করেন। জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে সংগঠনটির সদ্যপ্রয়াত আবুল কাশেম চৌধুরীর স্মরণে এই সভা হয়।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেছেন, তারেক রহমানকে দেশে ফেরাতে কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখছি না। প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বন্দী বিনিময় চুক্তি করা হবে।

তারেক রহমানের নাগরিকত্ব ইস্যুতে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমি বলতে চাই, ব্রিটিশ আইনে এটা সম্ভব নয়। তারেক রহমানকে পলিটিক্যাল এসাইলাম (রাজনৈতিক আশ্রয়) দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ আইনে লেখা আছে, পৃথিবীর কোনো শক্তি বা জাতিসংঘ রেজুলেশন করলেও ব্রিটিশ সরকার এই ব্যক্তিকে কখনো তার দেশে পাঠাবে না, যতক্ষণ না ওই ব্যক্তি নিজে বলেন এখন আমি আমার দেশে যাওয়ার পরিস্থিতি হয়েছে।’

সরকারের উদ্দেশে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনতে পারবেন না। তিনি (তারেক রহমান) ফিরে আসবেন বাংলাদেশে বীরের বেশে, যখন বাংলাদেশের জনগণ চাইবে। শেখ হাসিনা চাওয়া না–চাওয়ার ওপর এর কোনো সম্পর্ক নাই।’

লন্ডনে আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘উনি বললেন, তাঁকে যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে। আমি বলতে চাই, আপনি যত মূল্য, যত ধমক দেন, যত কিছু করেন না কেন, ব্রিটিশ আইনে এটা সম্ভব না।’

খন্দকার মোশাররফ বলেন, তারেক রহমানকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে যুক্তরাজ্য রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে এবং তাঁর নাগরিকত্ব থাকবে। ব্রিটিশ আইনের নিয়ম হলো, যখন কেউ পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম চায়, তখন তাকে পাসপোর্টটি জমা দিতে হয় সেখানকার হোম মিনিস্ট্রিতে। এটার অর্থ নাগরিকত্ব ছেড়ে দেওয়া নয়।

শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিমসহ শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন