পদযাত্রার সামনে ছিলেন সোহেল তাজ ও তাঁর বোন মাহজাবীন। সোহেল তাজের হাতে একটি প্ল্যাকার্ড ছিল। তাতে তিনটি দাবি লেখা ছিল। এক. ১০ এপ্রিলকে (১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশ গণপরিষদ গঠিত হয়) প্রজাতন্ত্র দিবস ঘোষণা করতে হবে। দুই. ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবসকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করতে হবে। তিন. জাতীয় চার নেতাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সব ব্যক্তির অবদান ও জীবনীসহ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস যথাযথ মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে সর্বস্তরের পাঠ্যপুস্তকে ও সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সোহেল তাজের পদযাত্রার সামনে পুলিশি পাহারা ছিল। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের ফুটপাত হয়ে আড়ংয়ের উল্টো দিক দিয়ে আসাদ গেট পেরিয়ে গণভবনের মূল ফটক পর্যন্ত যায় এই পদযাত্রা। যাত্রা শুরুর প্রায় ৩০ মিনিট পর পদযাত্রা গণভবনের গেটে এসে পৌঁছায়। এই পথের দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। গণভবনের গেটে এলে দেখা যায় পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের বসার জন্য ৫০টির মতো প্লাস্টিকের চেয়ার রাখা। তবে অংশগ্রহণকারী কেউ চেয়ারে বসেননি।

সোহেল তাজকে স্বাগত জানাতে গেটের বাইরে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া। তিনি সোহেল তাজের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সোহেল তাজ ও মাহজাবীন আহমেদকে গণভবনের মূল ফটকের অভ্যর্থনাকক্ষে নিয়ে যান বিপ্লব বড়ুয়া। এ সময় সোহেল তাজের হাতে তিনটি দাবির বিষয় উল্লেখসহ দুই পাতার একটি স্মারকলিপি ছিল।

অভ্যর্থনাকক্ষে মিনিট সাতেক অবস্থানের পর বেরিয়ে এসে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন সোহেল তাজ। আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি নিয়ে এসেছেন তিনটি দাবি নিয়ে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে যদি কোনো ফাঁক থাকে, তাহলে স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি সেই ফাঁক পূরণ করার সুযোগ পাবে। বাংলাদেশকে যদি সোনার বাংলা হিসেবে বিনির্মাণ করতে হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। তিনি বলেন, ‘আশা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একমাত্র ব্যক্তি, যিনি এই তিনটি দাবি বাস্তবায়ন করতে পারবেন। তাঁর ওপর আমার সম্পূর্ণ আস্থা আছে।’