বিএনপি-জামায়াত জোটের কর্মকাণ্ডকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাদের ‘দানব’ আখ্যায়িত করে কোনো ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩৫তম জাতীয় সমাবেশের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা অকারণে সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মারছে, তারা কি মানুষ? না দানব। এটা কি রাজনীতি? বিএনপি-জামায়াত জোট যা করছে, তা জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ। আমরা এই দানবদের কোনো ছাড় দেব না। দানবের কাছে মানুষ হারতে পারে না। আমরা এই দানবদের প্রতিহত করে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনব। বাংলাদেশে জঙ্গিদের কোনো ছাড় দেব না।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখনই বিএনপি-জামায়াত দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ধ্বংসযজ্ঞে মেতে উঠেছে। আমরা সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছি। আর তারা পেট্রলবোমা মেরে সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে। মুখের গ্রাস কেড়ে নিচ্ছে।’
শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গত বছর সাধারণ নির্বাচনের আগে দেশব্যাপী যে নজিরবিহীন নাশকতা চালানো হয়, তার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে। রেলপথ রক্ষায় আনসার বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের পর তা কমে যায়। রেলপথের নাশকতা কমাতে র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে আনসার সদস্যদেরও দায়িত্ব দেয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী জানান, রেলপথের নাশকতা রোধে এক হাজার ৪১টি পয়েন্টে আট হাজার ৩২৮ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন সড়কেও পর্যায়ক্রমে ১২ জন করে ৯৯৩ পয়েন্টে আনসার সদস্য নিয়োজিত করা হয়।
আজ সকালে হেলিকপ্টারে করে আনাসার একাডেমির মাঠে অবতরণ করেন শেখ হাসিনা। সকাল সোয়া ১০টার দিকে তিনি কুচকাওয়াজের মাঠে পৌঁছান। পরে খোলা জিপে করে আনসার বাহিনীর কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। বক্তব্য শেষে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩৫তম জাতীয় সমাবেশের উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি।
কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাহিনীর ৯৭ জন সদস্যকে পদক দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি আনসার একাডেমির লেকের পাশে অনুষ্ঠিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ এবং কুটিরশিল্প পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, স্বরাষ্ট্রসচিব মো. মোজাম্মেল হক খান, তিন বাহিনীর প্রধান, বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নাজিম উদ্দীন, গাজীপুর জেলা প্রশাসক মো. নূরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম মোস্তফা কামাল, পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন