তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, দানবের সঙ্গে মানবের সংলাপ হয় না। আগুন-সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংলাপ হতে পারে না। তিনি আরও বলেন, সংবিধান, গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তবে তার আগে নাশকতা বন্ধ করতে হবে।
গতকাল রোববার তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজউদ্দিন আহমেদের বিবৃতি এবং গোলটেবিল বৈঠকে কয়েকজন বুদ্ধিজীবী-রাজনীতিবিদের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া সম্পর্কিত মতামতের বিষয়ে সরকারের বক্তব্য তুলে ধরার জন্য ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
হাসানুল হক ইনু বলেন, কতিপয় বুদ্ধিজীবী সংলাপ নিয়ে যতটা সরব, আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারার বিরুদ্ধে ঠিক ততটাই নীরব। দেশ ও মানুষের জন্য ওই বুদ্ধিজীবীদের সামান্য মায়া থাকলে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারা বন্ধ করতে বলতেন।
বুদ্ধিজীবীদের সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্টভাবে কথা বলতে হবে—এমনটা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বুদ্ধিজীবীরা যুদ্ধাপরাধী ছাড়া সব রাজবন্দীর মুক্তি চেয়েছেন। তা হলে নাশকতার সঙ্গে জড়িতদেরও ছাড়তে হবে কি না, মন্ত্রী তা জানতে চান। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ায় বুদ্ধিজীবীদের বক্তব্যের সমালোচনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ আর আগুনে পোড়ানোর ঘটনাকে এক পাল্লায় মেপে আগুনে পোড়ানোকে বৈধতা দিচ্ছেন।
বুদ্ধিজীবীদের ভালো করে পড়াশোনা করে প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সংলাপের দাবি করলেও এখন পর্যন্ত কেউ গঠনমূলক প্রস্তাব দেননি। সংবিধান উপেক্ষা করে কেউ কেউ এমন প্রস্তাব দিয়েছেন, যা সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি করবে। বিরোধী জোটের হরতাল-অবরোধ কার্যত ব্যর্থ—এমনটা দাবি করে মন্ত্রী বলেন, চোরাগোপ্তা হামলার কারণে আতঙ্ক থাকায় মহাসড়কে যান চলাচল তুলনামূলক কম।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন