আইনমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার ফাঁস হওয়া কথোপকথনের উল্লেখ করে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এই দুজনের কথোপকথনের মধ্য থেকে একটা অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও সর্বোচ্চ পর্যায়ে দুর্নীতি সংগঠিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সেই বিষয়ের ব্যাপারে আমরা বলেছি, আপনারা (দুদক) তদন্ত জোরদার করুন। এ বিষয়ে শক্তিশালী তদন্ত করুন এবং আমরা সে–সংক্রান্ত কিছু দলিল, কাগজপত্র ওনাদের হাতে দিয়েছি, একটি পেনড্রাইভ দিয়েছি। সেই সঙ্গে কিছু ডকুমেন্টেশনও দিয়েছি।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, দ্বিতীয়টি হলো সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের ভাই ফরিদপুরের জনাব বাবর সাহেব (মোহতাশেম বাবর)। তাঁর গ্রেপ্তারের বিষয়টি, পরে কী হলো, কী কারণে এটি থেমে গেল বা সেই জায়গায় কী কাজ হচ্ছে, এ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ আছে।

বিষয়টি অনুসন্ধানে নিম্ন আদালতের মতো দুদকেরও হঠাৎ করে গতি বেড়ে যাবে বা হঠাৎ থেমে যাবে কি না—সে প্রশ্ন তুলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘এই জিনিসের পরিষ্কার ব্যাখ্যা চাওয়ার জন্য আমরা এসেছি।’

আইনমন্ত্রী ও উপদেষ্টার কথোপকথনে আসলে অভিযোগটা কী এবং কার বিরুদ্ধে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ মোয়াজ্জেম বলেন, অভিযোগটি কোনো কাজের ব্যাপারে, সরকারি বড় একটি কাজ, লাভজনক একটি কাজ। যে কাজ পছন্দের কাউকে পাইয়ে দেওয়ার জন্য ওনারা (আইনমন্ত্রী ও উপদেষ্টা) নেগোশিয়েট করছেন।

দুর্নীতির এত এত অভিযোগের মধ্যে বিএনপি সুনির্দিষ্ট এ দুই বিষয় নিয়ে কেন এল, জানতে চাইলে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এ দুই বিষয় দিয়ে বিএনপি শুরু করল। পর্যায়ক্রমে আরও বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে এখানে আসা হবে।

নিজ দলের নেতাদের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে আসবেন কি না, জানতে চাইলে মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘সেগুলো তো বিচারাধীন। যেগুলো বিচারাধীন নয়, আমরা সে ধরনের বিষয়গুলো নিয়ে এসেছি। এর মধ্যে বেশির ভাগই হচ্ছে অপ্রমাণিত, সাজানো। আরেকটি হচ্ছে দুদক যদি স্বাধীনভাবে সেখানে কাজ করে, বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট দিতে পারে, সেখানে বিএনপির কোনো আপত্তি নেই।’

অভিযোগ জমা দেওয়ার বিষয়ে দুদক কী বলেছে, জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘দুদকের পক্ষ থেকে আমাদের ওয়েলকাম করা হয়েছে। আমরা বলেছি, আমরা ভবিষ্যতেও বিভিন্ন প্রসঙ্গ আনব। আজ এসেছি নোটিশবিহীন, এ জন্য দুঃখিত। ভবিষ্যতে নোটিশ দিয়ে আসব।’

পরে এ বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘ওনারা কয়েকজন (বিএনপি নেতা) এখানে একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে এসেছেন। যে কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করতে পারেন। এটা রেজিস্টারে রিসিভ করা হয়েছে। দুদক আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’

কী অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন, জানতে চাইলে দুদকের সচিব বলেন, ‘ওনারা দুটি লিখিত অভিযোগ দিয়ে গেছেন, তাতে কী লেখা আছে, তা আমরা এখনো খুলে দেখিনি।’