তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মানবতার মা। তিনি ছুটে গেছেন, সেখানে ত্রাণ তৎপরতায় রত প্রশাসন ও আমাদের দলীয় নেতাদের উৎসাহ দিয়েছেন, নির্দেশনা দিয়েছেন। স্বস্তির কথা হচ্ছে, আজকে সেখানে কোনো বৃষ্টি হয়নি। আগের তুলনায় বন্যা পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। কোনো কোনো জায়গায় চার–পাঁচ ফুট পানি নেমে গেছে। প্রধানমন্ত্রী সিলেটের প্রধান নদীগুলো ড্রেজিং করার নির্দেশনা দিয়েছেন। কারণ, পলি জমার কারণে নদীর নাব্যতা কমে গেছে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘১৬ জুন সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সেদিন সকালেই প্রধানমন্ত্রী ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। জনপ্রশাসন, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীকে কাজে লাগিয়েছেন। একই সঙ্গে দলের নেতা–কর্মীকে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য আদেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আজকে সরেজমিন দেখলাম। স্থানীয় ব্যক্তিরাও জানিয়েছেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন।’

তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘সিলেটে আমাদের একজন নেতার বাড়ির নিচতলা পানিতে ডুবে গেছে। এমন অবস্থায় নিজের দোতলায় থেকে তিনতলায় মানুষকে আশ্রয় ও খাবার দিচ্ছেন। সেনাবাহিনীর জিওসি বলেছেন, বন্যার মধ্যে জায়গা চেনা যাচ্ছে না। কারণ, হাওরের মধ্যের সব রাস্তা তলিয়ে গেছে। এমনকি দ্বীপ পর্যন্ত চিহ্নিত করা যায় না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আমাদের নেতা–কর্মীরা তাঁদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সুনামগঞ্জের ডিসি–এডিসি একটি নৌকা ঠেলে এক প্রসূতি মা, তাঁর স্বামী ও আরেকজন নারীকে ডিসি অফিসে এনেছেন। সেখানে সন্তানের জন্ম হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার নাম রেখেছেন ‘প্লাবন’।’

বন্যা নিয়ে বিএনপি নেতাদের বিভিন্ন মন্তব্যেরও জবাব দেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন সিলেটের মেয়রকে তাঁর দলের কাছ থেকে কী পেয়েছেন জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি কিছু বলতে পারলেন না। কারণ, তাঁর দল বিএনপির পক্ষ থেকে কিছুই করা হয়নি, তাদের নেতাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকায় বসে তাঁরা লম্বা লম্বা বক্তব্য দেন, বাকবাকুম করেন, ওখানে তাঁদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁরা জানেই না যে সিলেট অঞ্চলের সব মন্ত্রী–এমপি তাঁদের এলাকায় গেছেন। শুধু করোনা আক্রান্ত বলে পরিকল্পনামন্ত্রী ঢাকায়।

বন্যা ও দুর্যোগের মধ্যেও সাংবাদিক নামধারী কেউ কেউ অপসাংবাদিকতায় লিপ্ত বলে অভিযোগ করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক নামধারী কেউ কেউ ঢাকায় বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, ইউটিউবে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। করোনার সময়, পদ্মা সেতুর ভিত্তি স্থাপন ও নির্মাণকাজ শুরুর সময়েও এটি হয়েছে, এখনো হচ্ছে। বন্যাদুর্গত জনগণ এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মূলধারার গণমাধ্যমগুলো আগে যেমন এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল, এখনো সোচ্চার থাকার জন্য অনুরোধ জানাই।’

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন