default-image

বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘২০১৫ সালে আমাকে দেশদ্রোহিতার কথা শোনানো হবে, এটা আমার জন্য যেমন লজ্জার, দেশের জন্যও লজ্জার, যে বলে তার জন্যও লজ্জার।’
গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর আরামবাগে গণফোরামের প্রধান কার্যালয়ে দলের বর্ধিত সভা শেষে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘একজন বলেছে, আমার দেশদ্রোহিতার বিচার করা হোক। পাকিস্তান আমার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করেছিল, কেয়ারটেকার সরকারের দাবি করায় বিএনপিও করেছিল। এরশাদও করেছিল। সুতরাং রাষ্ট্রদ্রোহিতার কথা শোনানোকে আমি পরোয়া করি না।’
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার টেলিফোন আলাপ প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বলেন, ‘আমার বিষয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার ইচ্ছা আমার নেই। টেলিফোন আলাপ বিষয়ে আমার কিছু জানাও নেই। আমি দেশেও ছিলাম না। দেশে ফিরে পত্রিকা দেখে আমি জেনেছি। আমাকে মিছিলে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। আমি বলেছি, এসব জিনিস পরিষ্কার না হলে মিছিলে যাওয়া যাবে না।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ফেসবুক স্ট্যাটাসে কামাল হোসেন সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। এ ব্যাপারে কামাল হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের কথা যাঁরা বলেন, তাঁদের সম্পর্কে আমার বলার কিছু নেই। তাঁর মতো মানুষের এ ধরনের কথা বলা শোভা পায় না।’
দেশে চলমান অস্বাভাবিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সংলাপের বিকল্প নেই উল্লেখ করে বিশিষ্ট এই আইনজীবী বলেন, সভ্য সমাজে আলাপ-আলোচনা করেই সব সমস্যার সমাধান করা হয়। এটা না করা হলে বিভাজন সৃষ্টি হবে। আর ঔপনিবেশিক শাসকেরা চেয়েছিলেন বিভাজন। তবে সে আলোচনা দুটি বড় দলের সঙ্গে হলেই চলবে না, সব রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতে হবে। ভোটের পরে কী হবে, দেশ কিসের ভিত্তিতে চলবে, তা নির্ধারণ করতে হবে।
কামাল হোসেন বলেন, গুম, হত্যা করে কেউ রক্ষা পাবে না। পেট্রলবোমাসহ সব ধরনের নৃশংসতার বিরুদ্ধে তাঁর দল কথা বলে। তিনি আরও বলেন, বোমা মেরে গুটি কয়েক মানুষ মেরে ফেলা যাবে, ১৬ কোটি মানুষকে মেরে ফেলা যাবে না।
গণফোরামের সভাপতি বলেন, তথাকথিত নির্বাচনের কারণেই দেশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কারণ, সরকারের বিভিন্ন শীর্ষ পর্যায় থেকে বলা হয়েছিল যে ৫ জানুয়ারি হবে বাধ্যবাধকতামূলক নির্বাচন। এর পরেই আরেকটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে।
বর্ধিত সভায় গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন, নির্বাহী সভাপতি মফিজুল ইসলাম খান, সুব্রত চৌধুরী, সভাপতি পরিষদের সদস্য আবদুল আজিজ, তবারক হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন