বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষ থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন এ কে আব্দুল মোমেন। দেশে ও বিদেশে কর্মরত কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলে শুক্রবার জানা যায়, সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যবসা-বিনিয়োগসহ নানা ক্ষেত্রে সেবার মান বাড়িয়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার তাগিদ দেন। পাশাপাশি তিনি ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে অর্থনৈতিক কূটনীতি ও জনকূটনীতি বাস্তবায়নে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আলোচনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী কনস্যুলার সেবাদানকারী বেশির ভাগ মিশনের বিরুদ্ধে বিদ্যমান অভিযোগগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন। একই সঙ্গে এসবের আশু নিষ্পত্তি কামনা করেন। ওদিকে মিশনগুলোতে পাসপোর্ট পেতে যে সীমাহীন ভোগান্তি চলছে, তার খণ্ডচিত্র মিশনপ্রধানেরা তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দূতাবাস ও মিশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীরা দায়সারা কাজ করেন। ফলে মিশনপ্রধানদের বদনাম হয়। তিনি দায়সারা কাজ সহ্য না করার নির্দেশনা দেওয়ার পরামর্শ দেন। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, অভিযোগ আছে মিশনগুলোতে বারবার ফোন করেও কাউকে পাওয়া যায় না। এ জন্য সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা ‘হট লাইন’ চালু রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেটা করতে প্রয়োজনে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু প্রবাসীদের সেবা দিতে হবে।

বিশ্বের বড় বড় দেশ তাদের নিজ দেশের ব্যবসা বাড়ানোর জন্য রাষ্ট্রদূতদের কাজ করার অনুরোধ করে থাকে জানিয়ে মন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, ‘তারা পারলে আমরা কেন পারব না?’

বাংলাদেশ মিশনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী যেন সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার না করেন, সেদিকে খেয়াল রাখতে নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সব দূতাবাসে সেবার গুণগত মান বাড়াতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, গত বুধবারও বিদেশে বাংলাদেশের একটি মিশন সম্পর্কে বড় অভিযোগ পেয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে কারাবন্দী বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি জেনেছেন, কারাবন্দী ভারতীয়দের সে দেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারা ছাড়িয়ে নিয়ে যান। কিন্তু বাংলাদেশের কেউ কারাগারে যান না। নথিপত্র জোগাড় করে কারাগারে থাকা প্রবাসীদের ফিরিয়ে আনা ও দরকার হলে আইনি সহায়তা দেওয়ার তাগিদ দেন মন্ত্রী।

সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং গণহত্যা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সমর্থন পেতে তৎপরতা জোরদারের আহ্বান জানান। তিনি ২০২২ সালের জন্য মিশনগুলোর কাজের পরিকল্পনাও চেয়েছেন।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন