অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বিষয়ে বিএনপিকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘নেতৃত্বশূন্য কোনো দল নির্বাচন করবে, আর জনগণ ভোট দেবে কী দেখে? ওই চোর, ঠকবাজ, এতিমের অর্থ আত্মসাৎকারী অথবা খুন, অস্ত্র চোরাকারবারি, সাজাপ্রাপ্ত আসামি, তাদের জনগণ ভোট দেবে দেশ পরিচালনার জন্য? তারা তো তা দেবে না। বাংলাদেশের মানুষ এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা পদ্মা সেতু করেছি নিজেদের অর্থে। অথচ এটা নিয়ে বিএনপি প্রশ্ন তোলে। যাদের আপাদমস্তক দুর্নীতিতে ভরা, তারা আবার প্রশ্ন তোলে কোন মুখে?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওরা তো কিছুই করে যেতে পারেনি। জাতির পিতা তাঁর প্রথম জাপান সফরে যে যমুনা সেতু করার উদ্যোগ নেন, সেটা তাঁকে হত্যার পর ক্ষমতায় আসা জিয়াউর রহমান বন্ধ করে দেন। পরে এরশাদ ক্ষমতায় এসে আবার উদ্যোগ নেন সেতুটি করার। কিন্তু খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর সেতুর কাজ খুব বেশি এগোতে পারেনি। কারণ, সব জায়গায় তাদের ছিল কমিশন খাবার অভ্যাস।’

১৯৯৬ সালে সরকারে এসে আওয়ামী লীগ যমুনা সেতুর সঙ্গে রেললাইন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের লাইন জুড়ে দিয়ে একে বহুমুখী করেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতায় নেতৃত্বদানকারী সংগঠন আওয়ামী লীগ এ দেশের পল্লি-প্রকৃতি-মাটি-মানুষের কল্যাণ যতটা উপলব্ধি করতে পারে, আর কেউ ততটা বুঝবে না। কারণ, তাদের মনে এখনো রয়ে গেছে ‘পেয়ারা পাকিস্তান’। তা ছাড়া জিয়া, খালেদা, এমনকি এরশাদ কারও জন্মই বাংলাদেশে নয়।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এই মাটিরই সন্তান। তাঁরা মাটির টানে, নাড়ির টানেই এ দেশের মানুষের ভাগ্য বিনির্মাণে কাজে লেগেছেন। আওয়ামী লীগের আদর্শই হচ্ছে জনগণের সেবা করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বানভাসি মানুষের পাশে আওয়ামী লীগ যেমন দাঁড়িয়েছে, তেমনি প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত বানভাসিদের উদ্ধার, চিকিৎসা প্রদান, খাদ্য প্রদান ও অন্যান্য সহায়তা প্রদানে সেখানে এতটুকু গাফিলতি নেই।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রথম দিন থেকেই আমরা এই বানভাসি মানুষের পাশে আছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব প্রত্যন্ত অঞ্চলে কেউ যেতে পারছেন না, সেসব জায়গার খবর পাওয়ার সঙ্গেই তিনি সশস্ত্র বাহিনী মারফত হেলিকপ্টারে করে সেখানে সাহায্য পাঠাচ্ছেন। সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চালানো বা খাদ্য পৌঁছানো হয়েছে। অথচ যারা আজ পর্যন্ত বানভাসি মানুষকে একমুঠো খাবারও দিতে পারেনি, তাদের পাশে দাঁড়ায়নি, ঘরে বসে তারা কেবল মায়া কান্না করছে। এটাই তাদের চরিত্র।

আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন। দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ গণভবন থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে। তারা ১৩ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন