default-image

ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতাই দেশে দুর্নীতি ও দুঃশাসন জন্ম দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি বলেন, স্বৈরতন্ত্র আর সুশাসনের অভাবের কারণে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলা যায় না। সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে যা চলছে, তাতে গণতন্ত্র চর্চা সম্ভব নয়। নোয়াখালীর বসুরহাটের মতো সারা দেশেই অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাপার বনানীর কার্যালয়ে এক যোগদান অনুষ্ঠানে জি এম কাদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘দেশে নির্ভেজাল গণতন্ত্র জরুরি হয়ে পড়েছে।’
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের বলেন, ‘১৯৯১ সালে পল্লিবন্ধু রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্র চলছে। বিএনপি ক্ষমতায় বসে দুর্নীতি ও দলীয়করণের মাধ্যমে দেশে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে, যা এখনো চলছে।’

বিজ্ঞাপন

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘পশ্চিম পাকিস্তানিদের বৈষম্যের প্রতিবাদে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। এখন ক্ষমতাসীন দল না করলে চাকরি মেলে না, ব্যবসা-বাণিজ্য করা যায় না। ক্ষমতাসীনেরা টেন্ডারবাজি, দলবাজি, চাঁদাবাজি করে দেশের মানুষের শান্তি হরণ করেছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মূল্যায়ন করলে মনে হচ্ছে, ৯১ সালের পর থেকে দেশের মানুষ স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ পাচ্ছে না।’
জি এম কাদের বলেন, ‘স্বাধীনতার সুফল দেশের মানুষের মধ্যে পৌঁছে দিতে নতুন করে সংগ্রাম শুরু করেছে জাতীয় পার্টি। তিনি সবাইকে জাতীয় পার্টির পতাকাতলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।’

জাতীয় পার্টি মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তুলনায় জাতীয় পার্টির শাসনামলে দেশের মানুষ বেশি সুশাসন ভোগ করেছে। আজকে জেলেরা বাজারে মাছ বেচতে গেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগকে চাঁদা দিতে হয়। রাস্তায় হকারদের দোকান করতে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগকেও চাঁদা দিতে হয়। দেশের মানুষ ভালো নেই।’

জাপার মহাসচিব আরও বলেন, ‘১৯৯১ সালের পর বিএনপি হাওয়া ভবন সৃষ্টি করে যে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের চালু করেছিল, তা গত ১২ বছরে আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মানুষের মানবাধিকার খর্ব করেছে। বর্তমান সরকার মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, মানুষের বাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ করেছে। কার্টুনিস্ট কিশোর আর লেখক মুশতাককে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করা হয়েছে, মুশতাক কারাগারেই মারা গেছেন।’

জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আগামী সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। জাতীয় পার্টির এগিয়ে চলায় কেউ বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না।’
জাপা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এনায়েতুর রহমান ও কক্সবাজার জেলা চকরিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কফিল উদ্দিনসহ বেশ কিছু ব্যক্তি জাপার চেয়ারম্যানের হাতে ফুল দিয়ে দলে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চেয়ারম্যানের বিশেষ সহকারী মীর আব্দুস সবুর, সাংসদ নাজমা আকতার।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন