সরকার ঘোষিত এই ঋণ তহবিলের সুবিধা ও সুষ্ঠু ব্যবহার নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে তথ্য ভবন মিলনায়তনে শতাধিক হলমালিক ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। এ সময় সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শতাধিক সিনেমা হলের মালিক সভায় অনলাইনে যুক্ত হন।

অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রকে সংস্কৃতির বিশাল এক অনুষঙ্গ হিসেবে বর্ণনা করে হাছান মাহমুদ বলেছেন, চলচ্চিত্র তথা সিনেমা হলের বিকাশ সমাজকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষায় সহায়ক। তরুণ সমাজকে মাদকাসক্তি ও জঙ্গিবাদ থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রেও সিনেমাশিল্প বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় হলমালিকেরা সহজ শর্তে এক হাজার কোটি টাকার ঋণ তহবিল গঠনকে স্বাগত জানান। তাঁরা এই ঋণ তহবিলকে দেশের চলচ্চিত্রশিল্পের পুনরুজ্জীবনের জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেন।
ঋণ তহবিল নিয়ে মতবিনিময় সভায় দেশে হিন্দি সিনেমা আমদানির পক্ষে মত দেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস। তিনি বলেন, হল পরিচালনার স্বার্থে অন্তত ২০ শতাংশ হিন্দি সিনেমা আমদানি করা বিশেষ প্রয়োজন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মকবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন অতিরিক্ত সচিব ফারুক আহমেদ, চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত ইয়াসমিন, চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী, রূপালী, অগ্রণী, জনতা, ইউসিবি, মেঘনা, বিডিবিএল ও ইউনিয়ন ব্যাংকের প্রতিনিধিরা। এ ছাড়া ছিলেন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক সিনেমা হলের মালিক ও আগ্রহী উদ্যোক্তারা।

দেশের চলচ্চিত্রশিল্পে প্রাণ ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ব্যাংককে এক হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনের অনুরোধ জানায়। গত বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে বাংলাদেশ ব্যাংক দুটি পরিপত্রের মাধ্যমে সব তফসিলভুক্ত ব্যাংক থেকে নতুন সিনেপ্লেক্স বা সিনেমা হল নির্মাণে সর্বোচ্চ ১০ কোটি এবং সংস্কারে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা ঋণের ব্যবস্থা করেছে। দেশে মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে ৫ শতাংশ ও এর বাইরের এলাকায় সাড়ে ৪ শতাংশ সুদে আট বছর মেয়াদি এ ঋণসুবিধা রাখা হয়েছে।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন