নিজেদের পঙ্গু করতে উঠেপড়ে লেগেছে নির্বাচন কমিশন: ফখরুল

বিজ্ঞাপন
default-image

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনী আইন সংশোধনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান হিসেবে কমিশনকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। তারা ভবিষ্যতে একটি ভালো নির্বাচন কমিশন পাওয়ার পথ রুদ্ধ করতে চায়।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে দলের চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম এ কথা বলেন। কমিশনের প্রস্তাবিত নির্বাচনী আইন সংশোধন নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, রকিব উদ্দিন কমিশন থেকে শুরু করে গত ১০ বছরে কমিশন নির্বাচনব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস ও অকার্যকর করে দিয়েছে। তারা ২০১৪ সালে রাজনৈতিক দলবিহীন নির্বাচন করেছে, ২০১৮ সালে করেছে ভোটারবিহীন ‘নৈশ’ নির্বাচন। প্রস্তাবিত আরপিওর মাধ্যমে ভবিষ্যতে করবে নির্বাচন কমিশনবিহীন প্রহসনের নির্বাচন।

অবশ্য সব মহল থেকে সমালোচনা শুরু হলে নির্বাচন কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) নাম পরিবর্তন এবং প্রার্থিতা বাতিলে ইসির ক্ষমতা বাদ দেওয়ার প্রস্তাবনা থেকে পিছু হটেছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিষয়টির উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, তারপরও উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। কারণ, এই কমিশনের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। তারা কী কারসাজিতে যুক্ত, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। তাদের অতীত কর্মকাণ্ডে এটি স্পষ্ট যে নির্বাচন কমিশন সরকারের নীলনকশা বাস্তবায়নেই তৎ​পর রয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশনের মেয়াদ তিন বছরের বেশি সময় পেরিয়েছে। এই সময়কালে এই নির্বাচন কমিশন একটিও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করতে পারেনি। এ অবস্থায় তারা নির্বাচনী আইন সংশোধনের নামে বিধ্বস্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও দুর্বল করার অপপ্রয়াস করছে। এটা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

মির্জা ফখরুল রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন আইন-২০২০ প্রণয়ন, নির্বাচনী আইন সংশোধনী প্রস্তাব এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনী আইন-২০২০ প্রণয়নে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগের প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘এ উদ্যোগ অস্বাভাবিক, অনভিপ্রেত, অগ্রহণযোগ্য এবং মহল বিশেষের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের অপকৌশল বলে মনে করি। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কমিশনের এ উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরপিও সংশোধনে উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘প্রস্তাবে যেসব বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে, তার অন্যতম হলো কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কর্তৃক ভোট গ্রহণ বন্ধ করা; সর্বোপরি আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের জন্য প্রার্থিতা বাতিলের (৯১ ই ধারা) ক্ষমতা রোধ। এসব ক্ষমতা রোধ করলে কমিশন একটি ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হবে, যার মাধ্যমে কার স্বার্থ সিদ্ধি হবে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, সর্বশেষ দৃষ্টান্ত হলো, ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষমতা জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রকল্প কমিশন সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব। এটা হলে ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষমতা সরকারের কাছে চলে যাবে। ফলে সরকার নিজের ইচ্ছেমতো ভোটার তালিকা প্রণয়নের সুযোগ পাবে। সেই তালিকায় প্রকৃত ভোটার নন, সরকারি দলের পছন্দের লোকজনকে স্থান করে দেওয়া হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এটা জাতির জন্য একটি অশনিসংকেত ছাড়া কিছুই নয়।

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের আগেই দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জেলায় অফিস বা কমিটি করার যে কথা বলা হয়েছে, তা মোটেই বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশনের সবচেয়ে বড় যেটা সমস্যা, তা হচ্ছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার যিনি আছেন, তাঁর কোনো মেরুদণ্ডই নেই।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আইন হচ্ছে একটি রক্ষাকবচ। আইন পরিবর্তনের কাজে কমিশন হাত দিতে পারে না। সরকার চাইলে নির্বাচন কমিশন সরকারকে আইন করার ব্যাপারে পরামর্শ দিতে পারে। কিন্তু স্বপ্রণোদিত হয়ে কমিশন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আইন পরিবর্তনের করার মাধ্যমে ক্ষমতা খর্ব করা অনেকটা আত্মহত্যার শামিল।

এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেবেন কি না, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আইনের দ্বারস্থ তখনই হওয়া যাবে, যখন আইন থাকবে দেশে, যখন বিচার পাওয়া যাবে দেশে। আমি কী বিচার পাচ্ছি বিচারালয়গুলোতে। আমার জুডিশিয়ারি কি আমাকে সেই বিচার দিচ্ছে?’

তাহলে নির্বাচনে যাচ্ছেন কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, গণতান্ত্রিক পথেই সরকার পরিবর্তনে আমরা বিশ্বাসী। এটার কারণে আমরা সব নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। নির্বাচনে অংশ নেওয়াটা আমাদের আন্দোলনের অংশ, পার্ট অব দ্য মুভমেন্ট। আমাদের আন্দোলনটা গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন