বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এবারের নির্বাচনে সহিংসতা আগের চেয়ে বেড়েছে। কারণ, সংসদ সদস্যরা নির্বাচনের বিধিমালা ও আচরণবিধি লঙ্ঘন করে পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন। কেউ তলে তলে। কেউ প্রকাশ্যে। এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় সহিংসতা ও অর্থ ব্যয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ প্রতীক পাওয়ার ক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ বেড়েছে। সহিংসতা ও অর্থ ব্যয় বেড়েছে বহিরাগতদের দিয়ে প্রচারণা ও কেন্দ্র পাহারার ক্ষেত্রে।

আমি তা মনে করি না, গতবারের চেয়ে এবারের নির্বাচন অপেক্ষাকৃত ভালো হয়েছে। কারণ, বেশির ভাগ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ লড়াই হয়েছে। যে কারণে প্রশাসন কোথাও নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বিএনপি অংশ নিলে প্রশাসনের এই চরিত্র থাকত না।

রিটার্নিং কর্মকর্তারা দলীয় নেতা, সাংসদের পক্ষে কাজ করেছেন। প্রশাসনের লোকজনও এই ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিলেন না। এতেও অর্থের ব্যাপার ছিল। নিরপেক্ষতা বলে কোনো কিছুর প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা বেশির ভাগ এলাকায় প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।

দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্রিয়াকলাপ সবচেয়ে বেশি প্রশ্নবিদ্ধ যেখানে, সেখানেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বেশিসংখ্যক প্রার্থী। বিরোধী দলকে বেশি দমনের চেষ্টায় বিনা ভোটে জয়ের সংখ্যা বেড়েছে। এটা স্থানীয় সরকার কাঠামোকে দুর্বল করে দেবে। পঞ্চম ধাপ পর্যন্ত নির্বাচনে কুমিল্লায় বিনা ভোটে অন্তত ২৫ জন চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন। এর পেছনে জবরদস্তি রয়েছে। অবৈধভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ, পেশিশক্তির ব্যবহার করা হয়েছে।

মাটি ও মানুষের সঙ্গে মিশে থাকা ব্যক্তিদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেছে বেছে মনোনয়ন দিতেন। এখন ত্যাগী নেতাদের নাম শীর্ষ নেতাদের কাছে পৌঁছায় না। এতে বিতর্কিত, সমালোচিত ব্যক্তিরা দলীয় মনোনয়ন পেয়ে জয়ী হন। তাঁরা সমাজের জন্য ভালো কাজের চেয়ে মন্দ কাজই বেশি করেন।


অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, সাবেক অধ্যক্ষ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন