বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি সিইসির রাশিয়া সফরের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিন আগে উনি নাকি রাশিয়াতে গিয়ে নির্বাচন পদ্ধতি দেখে এসেছেন। রাশিয়ারও একই অবস্থা। একইভাবে যে সরকারে থাকে, হয় সে একবার প্রেসিডেন্ট হয়, নয় তো প্রধানমন্ত্রী হয়। এটা আরও মজার জিনিস। একই লোক বারবার প্রেসিডেন্ট হচ্ছে, বারবার প্রধানমন্ত্রী হচ্ছে, সিস্টেমটা তা-ই। বাংলাদেশের সঙ্গে তার কোনো পার্থক্য নেই। ওটা দেখে এসেছেন উনি। দিনের বেলায় কীভাবে ভোট চুরি করা যায়, সেটার ট্রেনিং নিয়ে এসেছেন তিনি।’
নেতা-কর্মীদের আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এই যে চক্রান্ত, এই যে ষড়যন্ত্র, বাংলাদেশের মানুষের অধিকার হরণ করার এই যে ভয়াবহ প্রচেষ্টা—এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। শুধু স্লোগান দিয়ে আন্দোলন হয় না। আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনটি স্মরণে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এর উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনই একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য শেষ নির্বাচন। যেখানে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরেছিল। এ জন্যই আমরা এ দিনটি বরণ করছি।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের নেতিবাচক মন্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার তো আমাদের দাবি ছিল না। এটা ছিল আওয়ামী লীগের দাবি, এ দাবি ছিল শেখ হাসিনার। এর জন্য আপনারা ১৭৩ দিন হরতাল করেছিলেন এবং গানপাউডার দিয়ে মানুষ হত্যা করেছিলেন। এই আওয়ামী লীগই সেদিন তাদের গুন্ডা বাহিনী দিয়ে দেশকে অচল করে দিয়েছিল। বাংলাদেশের যারা শত্রু, যারা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা চায় না, তারা তখন থেকেই একটি নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছিল।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ এখন সুষ্ঠু নির্বাচনকে ভয় পায়। কারণ, তারা জানে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তারা ৩০টি আসনও পাবে না। সে জন্য তারা প্রশাসন, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রযন্ত্র, এমনকি গণমাধ্যমকেও নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছে। এভাবে দলে-পিষে তারা ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করছে। ভয়ংকর ভয়ংকর আইন করে, ত্রাসের সৃষ্টি করে পুরো দেশ, জনগণকে পায়ের তলে দাবিয়ে রাখছে।

বর্তমান সরকারের পদত্যাগের দাবিকে বেঠিক বলে মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী এই সরকার পদত্যাগ করলে যাদের দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার হবে, সেটাও হবে তাদের দিয়ে। তাই এই সরকারের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আনতে হলে সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে। এটা করতে হলে কোনো ছোটখাটো আন্দোলনে হবে না। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, এ ধরনের আন্দোলনে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে না পারলে কেবল দলীয় কর্মীদের দিয়ে, দৃঢ় সমর্থকদের দিয়ে গণ-আন্দোলন হয় না। গণ-আন্দোলনে ব্যাকরণ অনুযায়ী আন্দোলনকে ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ ও তীব্র করতে হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তা দেখছি না। এটাই জাতির বড় সংকট।’

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপিকা দিলারা চৌধুরী, অধ্যাপক আবদুল লতিফ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, দলের ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূইয়া, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম, ছাত্রদলের সভাপিত ফজলুর রহমান প্রমুখ।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন