বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হন আবদুর রউফ। গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তিনি প্রতিবেশী রুহুল আমিনের মোটরসাইকেলে করে লক্ষ্মীপুর বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। বামুনিরপাড়া এলাকায় তাঁরা হেঁটে একটি ক্ষতিগ্রস্ত সেতু পার হচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি রড নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর রউফকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। ঘটনার পর রাতেই উত্তেজিত লোকজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইউনিয়নের মাগুড়াকুটি গ্রামের আরিফ মিয়ার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে তাঁর ঘরের বেশির ভাগ অংশ পুড়ে যায়।

নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যার পর রংপুরের পীরগাছার অন্নদানগর ইউনিয়নে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদে বিজয়ী প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম ও পরাজিত প্রার্থী রফিকুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় রিয়াজুলের সমর্থক আব্দুর রহিম (৪০) দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে আহত হন। তাঁকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। শুক্রবার রাত নয়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নওগাঁর মান্দা উপজেলার গণেশপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শফিকুল হক বাবুল চৌধুরীর সমর্থক সাইফুল ইসলাম সতীহাট বাজারের একটি কাপড়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হানিফ উদ্দিন মণ্ডলের সমর্থকেরা মিছিল বের করেন। ওই মিছিল থেকে সাইফুলের ওপর হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে দুই পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন। এ সময় সতীহাট বাজারে হানিফের নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়।

শফিকুল হক বলেন, এলাকায় ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করতে হানিফের লোকজন হামলা চালিয়েছেন। তবে হানিফ উদ্দিন বলেন, শফিকুলের পক্ষ তাঁর লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে।

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নে প্রতিপক্ষের হামলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওয়াজেদ আলী মণ্ডল (দাদা ভাই) ও তাঁর চার সমর্থক আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে মোসলেমগঞ্জ বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী মিলন মণ্ডল এই হামলা চালিয়েছেন বলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর অভিযোগ। তবে মিলন মণ্ডল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে নির্বাচিত হন আলমগীর হোসেন। নির্বাচনে হেরে যান তাঁর পাশের বাড়ির নুরুল হুদা। গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর আবদুল্লাপুর দোকানঘর এলাকায় দুই প্রার্থীর সমর্থকেরা তর্কাতর্কিতে লিপ্ত হন। একপর্যায়ে পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে পাঁচজন আহত হন। এ ঘটনার জের ধরে পরাজিত সদস্য প্রার্থীর দোকানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

নুরুল হুদার অভিযোগ, প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর দোকানে অগ্নিসংযোগ করেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজয়ী প্রার্থী আলমগীর হোসেন।

লালমনিরহাটের আদিতমারীর আট ইউপির নির্বাচন গত বৃহস্পতিবার মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলেও নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার থেকে গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত মহিষখোঁচা, ভেলাবাড়ি, সারপুকুর ও ভাদাইয়ে বিজয়ী ও পরাজিত চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌফিক আহমেদ বলেন, আহত ৬২ জনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

নরসিংদীর রায়পুরার মির্জাপুরে চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকে বর্তমান চেয়ারম্যান আসাদুল্লাহ ভূঁইয়া, চশমা প্রতীকে সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুর এলাহী ও নৌকা প্রতীকে আবদুস সাদেক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শুক্রবার প্রতীক বরাদ্দের পর এলাকায় ফিরে মিছিল বের করেন আসাদুল্লাহ ও মঞ্জুরের সমর্থকেরা। পিরিজকান্দি বাজারে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় বর্তমান চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয় ও বাজারের বেশ কিছু দোকান ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন।

মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের তালতলা বাজারে শুক্রবার রাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হায়দার কাজীর সমর্থকদের সঙ্গে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাওলাদারের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। এ সময় একটি নির্বাচনী ক্যাম্প, চারটি মোটরসাইকেল, একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বাকশিমইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থকদের আবার মারামারি হয়েছে। সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। শুক্রবার রাতে ইউনিয়নের ভেটুপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন