পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ দুই পক্ষের নেতাদের

আ জ ম নাছির উদ্দীন ও মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারীরা কমিটিতে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে মরিয়া।

মহানগর যুবলীগের সম্মেলন নিয়ে চট্টগ্রামে যুব নেতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ–উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি চলছে পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ। চট্টগ্রামে আওয়ামী রাজনীতির ধারা অনুযায়ী শীর্ষ পদপ্রত্যাশীরাও মূলত দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে চেষ্টা–তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই দুই শিবিরের একটিতে রয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী পদপ্রত্যাশীরা। অন্য পক্ষটি প্রয়াত মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীরা। এই পক্ষ এখন মহিউদ্দিনপুত্র শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীকে তাঁদের নেতা মানেন। এ ছাড়া যুবলীগের পদপ্রত্যাশীদের মতো কয়েকজন বাকশালপন্থী সাবেক ছাত্রনেতা এবং পক্ষহীন প্রার্থীও রয়েছেন।

উল্লেখ্য, সদ্য ঘোষিত স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিতে শীর্ষ দুটি পদ মহিবুলপন্থীদের দখলে গেছে। তবে সহসভাপতিসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পদ নাছিরপন্থীরা পেয়েছেন। এখানেও নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে মরিয়া দুই পক্ষ।

৩০ মে নগরের কিং অব চিটাগং কনভেনশন সেন্টারে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ২৮ মে দক্ষিণ জেলা ও ২৯ মে উত্তর জেলা যুবলীগের সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলন সামনে রেখে শীর্ষ দুই পদের জন্য শতাধিক জীবনবৃত্তান্ত জমা পড়েছে।

নগর যুবলীগের বর্তমান আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন ও দুই যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন ও ফরিদ মাহমুদ যুব রাজনীতিতে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আগেই। যার জন্য তাঁরা আর জীবনবৃত্তান্ত জমা দেননি।

তবে দুই যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল হক (সুমন) ও দিদারুল আলম সভাপতি পদের জন্য নিজেদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। এই দুজনের মধ্যে মাহবুবুল হক সিটি কলেজকেন্দ্রিক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। তবে মহিউদ্দিনপন্থী হিসেবেও তিনি পরিচিত। তিনি সভাপতি পদে জোর তদবির করে চলেছেন।

এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে শীর্ষ দুই পদে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম আর আজিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সালাহউদ্দিন, সাবেক ছাত্রনেতা দেবাশীষ পাল, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওয়াসিম উদ্দিন, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম, করোনা আইসোলেশান সেন্টারের উদ্যোক্তা মোহাম্মদ সাজ্জাত হোসেন, আরশেদুল আলম, হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন প্রার্থী রয়েছেন।

এ ছাড়া আ জ ম নাছিরপন্থীদের মধ্যে ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ (বিপ্লব), ছাত্রলীগের স্টিয়ারিং কমিটির সাবেক সদস্য দিদারুল আলম, সুমন দেবনাথ, লিটন রায় চৌধুরী শীর্ষ পদের জন্য শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী।

দুই পক্ষই স্থানীয় শীর্ষ নেতার পাশাপাশি ঢাকায় গিয়ে তদবির চালাচ্ছেন। সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী নুরুল আজিম ঢাকা থেকে গতকাল চট্টগ্রাম এসেছেন। তিনি বলেন, নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাতে তিনি আশাবাদী।

তদবিরের জন্য বেশির ভাগ পদপ্রত্যাশীই ঢাকায় অবস্থান করছেন। সভাপতি পদপ্রত্যাশী হাসান মুরাদ বলেন, চট্টগ্রামের রাজনীতির ধারা অনুযায়ী সব পক্ষকে নিয়ে একটি ভালো কমিটি হবে এই প্রত্যাশা রয়েছে। নিজেদের মতো চেষ্টা–তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন সবাই।

নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আ জ ম নাছির উদ্দীন এবং মহিবুল হাসান চৌধুরীও নিজেদের বলয়ের নেতাদের জন্য নানা মাধ্যমে তদবির চালাচ্ছেন। কেন্দ্রে জমা দেওয়া জীবনবৃত্তান্ত, গোয়েন্দা প্রতিবেদন, অতীত কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলেই মূলত নাম নির্বাচিত করা হবে বলে কেন্দ্রীয় যুবলীগ সূত্র জানায়।

সম্মেলন সামনে রেখে ইতিমধ্যে ব্যানার–ফেস্টুন উঠেছে সম্মেলনস্থলের আশপাশসহ বিভিন্ন স্থানে। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিও করা হয়েছে। আজ রোববার সম্মেলন প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম আসার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক শেখ নাঈম ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমানের।

নগর যুবলীগের বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ বলেন, ‘সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করা হয়েছে। সম্মেলন কীভাবে হবে, তা নিয়ে প্রতিনিয়ত কেন্দ্রের সঙ্গে এবং নিজেদের মধ্যে সভা করছি।’

সম্মেলন সামনে রেখে কাউন্সিলর ও ডেলিগেট নির্ধারণে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে বর্তমান কমিটিকে। নগরের ৪১ ওয়ার্ডের মধ্যে কমিটি রয়েছে মাত্র ৪ ওয়ার্ডে। বাকি ওয়ার্ডগুলোতে কমিটি রয়েছে ২০ থেকে ২৫ বছরের পুরোনো।