default-image

সরকারের সমালোচনার নামে দেশে-বিদেশে অপপ্রচার চালিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় বিএনপিসহ সুবিধাবাদি শ্রেণির কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আগুন–সন্ত্রাস বিএনপির প্ল্যানড গেম।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবার আয়োজিত দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চ্যুয়ালি এই সভায় যুক্ত হন।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন যেসব নির্বাচন হচ্ছে সেখানে তারা (বিএনপি) নামকাওয়াস্তে ক্যান্ডিডেট দেন, খুব হৈচৈ করেন। এটা তাদের একটা পরিকল্পিত খেলা, প্ল্যানড গেম। আমরা এখন জানি, তারা এটাই করবে। কারণ তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করা।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা-১৮ আসনে যখন নির্বাচন করতে গেলাম (গত ১২ নভেম্বর), তখনও একই ঘটনা, কতগুলো বাসে তারা আগুন দিল। পার্লামেন্টে বিএনপির এক নেতা (সাংসদ হারুনুর রশীদ) এ ব্যাপারে প্রশ্ন তুললেন। আমার কাছে এ বিষয়ে তাঁর দলের লোকের বক্তব্যের ভিডিও রেকর্ড ছিল।’

আওয়ামী লীগের সভাপতি এ সময় ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা চালিয়ে অপপ্রচারের মাধ্যমে সেটির দায়ভার আওয়ামী লীগের ওপর চাপানোর অতীত ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে কিছু বলে সংগঠনের জন্য বাইরে থেকে ভালো ফান্ড আনতে পারবেন, বাংলাদেশকে এখনো দরিদ্র, ক্ষুধার্ত বা গরিব দেখিয়ে ফান্ড আনতে পারবেন। তবে, এই ফান্ড যায় কোথায়, কী কাজে ব্যবহার করা হয়, তারও অ্যাকাউন্টেবিলিটি (জবাবদিহিতা) থাকতে হবে, তারও হিসাব দিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুধু কথা বলে লাভ নেই (ঢালাও সমালোচনা)। ভবিষ্যতে সেই হিসাবও আমরা আস্তে আস্তে নিতে শুরু করব।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাঁর করে দেওয়া ডিজিটাল বাংলাদেশে প্রযুক্তির উৎকর্ষ এবং অবাধ বাক্‌স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে মিডিয়াতে সরকারের ঢালাও সমালোচনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আমাদের একধরনের শহুরে লোক রয়েছে। আমরাই ডিজিটাল করে দিয়েছি, বেসরকারি টিভি চ্যানেল দিয়েছি, সবার হাতে মুঠোফোন দিয়ে দিয়েছি। এখন আমাদের দেওয়া জিনিস ব্যবহার করেই তারা বলছে যে, এটা হলো, ওটা হলো না, তাদের কেউ দেখছে গণতন্ত্রই নাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, তাদের কাছে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা করে, তাহলে জিয়াউর রহমান যখন হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মার্শাল ল দিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন তখন কি গণতন্ত্র ছিল? নাকি ১৫ ফেব্রুয়ারির (১৯৯৬ সালে) নির্বাচনে খালেদা জিয়া ভোট চুরি করে ক্ষমতায় গেল, ওটা গণতন্ত্র?

সরকারপ্রধান বলেন, করোনাভাইরাস মহামারি বুঝিয়ে দিয়ে গেল দুর্নীতি আর অনিয়ম করে উপার্জিত টাকা-পয়সার কোনো মূল্য নেই। যাঁরা কিছু হলেই চিকিৎসার জন্য বিদেশে চলে যেতেন, তাঁদের জন্য করোনাভাইরাস শিক্ষা দিয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা শনাক্তের পর দ্রুত এবং সুদূরপ্রসারী ও পরিকল্পিত পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সরকার সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আবারও করোনা শনাক্তের হার বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আবার একটা ধাক্কা আসছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আবারও দেশবাসীর প্রতি মাস্ক পরা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের জন্য কাজ করে, ফলে দলটির প্রতি দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। তিনি বলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে নানা গবেষণা চলছে, সরকার আগাম টাকা দিয়ে রাখছে এবং যখনই ভ্যাকসিন বাজারে আসবে, বাংলাদেশ তা পাবে।

মন্তব্য পড়ুন 0