বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম–দুর্নীতি নিয়ে নানা প্রতিবেদন করেছেন রোজিনা ইসলাম। গত সোমবার পেশাগত দায়িত্ব পালনে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলে তাঁকে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে হেনস্তা করা হয়। পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে তাঁর বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা দেওয়া হয়। পরদিন মঙ্গলবার তাঁর রিমান্ড আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠান আদালত। তখন থেকে কারাবন্দী এই সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে সারা দেশে বিক্ষোভ চলছে। জাতিসংঘও রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তারে উদ্বেগ জানিয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে রোজিনা ইসলামকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

এরপরও বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে রোজিনা ইসলামের জামিন বিষয়ে আদেশ পিছিয়ে যাওয়ার সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার বিএনপি আয়োজিত ‘অবরুদ্ধ গণতন্ত্র, শৃঙ্খলিত গণমাধ্যম মুক্তির পথ কী?’ শীর্ষক এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘জামিনের শুনানি আজ হয়েছে। রায় দেবে রোববার। সেই পুরোনো কৌশল। রাজনীতিবিদদের সঙ্গে এত দিন যা হয়ে এসেছে, সেটাই এখন এই রাষ্ট্রের চরিত্র।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘রোজিনা ইসলামের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটা সামগ্রিক বাংলাদেশের চেহারা। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরই একের পর এক সাংবাদিকদের ওপর অত্যাচার নেমে এসেছে।’

তিনি বলেন, এত দিন ভিন্নমতের রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের ওপর সরকারের নিপীড়ন চলেছে। এখন তা গণমাধ্যমের ওপরে এসেছে।

বিএনপির নেতা-কর্মীদের ‘গুম’, খুন এবং বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের হয়রানি ও নির্যাতনের বিষয়ে অনেক গণমাধ্যম নীরব ছিল বলে সমালোচনা করেন বিএনপির মহসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মিথ্যা মামলার বিষয়ে গণমাধ্যমকে সেভাবে সোচ্চার হতে দেখিনি। হয়তো ভেবেছে আমার ওপর আসেনি। এখন আপনাদের ওপর এসেছে।’ প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের সম্পাদকও মামলার হাত থেকে রেহাই পাননি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিজম এলে কেউ রক্ষা পায় না। এই সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘রোজিনা ইসলামের বিষয়ে সব সাংবাদিক এক হয়েছেন। এই ঐক্য কতক্ষণ টিকবে? সাগর–রুনির সময়ও দুই পক্ষ এক হয়ে রাস্তায় নেমেছিল। কিন্তু চার–পাঁচ দিনও যায়নি। একজন এখন সরকারে উপদেষ্টা হয়েছেন। আরও কয়েকজনকে হালুয়া–রুটি দিয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত হালুয়া–রুটির সন্ধানে থাকব, ততক্ষণ পর্যন্ত রোজিনা ইসলামের মতো সাহসী সাংবাদিকদের রক্ষা করা যাবে না।’

আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, গণমাধ্যম এখন সরকারের ‘হাতের মুঠোয় বন্দী’। সচিবালয়ে সাংবাদিককে নির্যাতন করা হয়। এটা ফ্যাসিবাদের চরিত্র।

এত বছরেও সাগর–রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন না দিতে পারার সমালোচনা করেন তিনি।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, টিকা কেনার চুক্তি কোনো গোপনীয় তথ্য হতে পারে না। এ তথ্য পাওয়ার জন্য কোনো সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হতে পারেন না। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হবে।

রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সরকারের চরিত্র আবারও সামনে এসেছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আবদুল মঈন খান। তিন বলেন, অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, রোজিনাকে ধরতে তারা মুখিয়ে ছিল।

বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রের গোপন নথি কীভাবে সচিবের পিএসের টেবিলে খোলা পড়ে থাকে? স্বাস্থ্যমন্ত্রী যদি এটাকে গোপন নথি, যা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর মনে করেন, তাহলে তাঁর ও মন্ত্রণালয়ের সবার চাকরি চলে যাওয়া উচিত।

আমীর খসরু বলেন, রোজিনার সঙ্গে যা হচ্ছে, তা দেশের বর্তমান বাস্তবতায় অপ্রত্যাশিত কিছু নয়।

জাতীয় প্রেসক্লাব ও বিএফইউজের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, রোজিনা ইসলামের জামিনের বিষয়ে বিচার বিভাগ দ্বিধায় আছে। এখানে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব বিচার বিভাগে দেখা যাচ্ছে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান বলেন, এই সরকার কখনোই গণমাধ্যমবান্ধব ছিল না। গত ১২ বছরে দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের একটা চক্র গড়ে উঠেছে।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন