বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, পুলিশ পেট্রলবোমা না ছুড়লে ২০-দলীয় জোটের তিন মাসের আন্দোলন বন্ধ হতো না। তিনি দাবি করেন, আন্দোলন চলাকালে পুলিশই বাসে আগুন দিয়েছে, পেট্রলবোমা মেরেছে। তারা নিজেরা স্বীকার করেছে যে তারাই সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে। তাদের কেন আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না?
গতকাল শনিবার সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘বিএনপির নেতা-কর্মীরা নাকি গাড়ি পোড়ায়। পুলিশ যেভাবে সাজিয়ে দেয় বিচারকেরা তা ভালোভাবে দেখেন না। তাঁরা একতরফা শাস্তি দেন। এ কারণে আমাদের নেতা-কর্মীদের দিনের পর দিন কারাগারে রাখা হয়, শাস্তি দেওয়া হয়। বিএনপি গাড়ি পোড়ানোর রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সঠিক নয়।’
খালেদা জিয়া সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের সময়ে তাঁর গাড়িতে একাধিক দফা হামলার ঘটনায় সরকার কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন। তিনি ১৯৯৬ সালে যাত্রীবাহী বাসে গানপাউডার দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা ও ২০০৬ সালে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে মানুষ হত্যার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘তাহলে কি আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী দল নয়? তারা সন্ত্রাসী। কত বাসে আগুন দিয়েছে তারা। এভাবে আওয়ামী লীগ প্রতি পদে পদে সন্ত্রাস করছে।’
বিচারক অপসারণে সংবিধানের ১৬তম সংশোধনীর কথা উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে দেওয়ার ফলে এখন বিচারকেরা বেশি নিয়ন্ত্রিত। এ জন্য দেশে আজ ন্যায়বিচার নেই, আইনের শাসন নেই। কারণ, আমরা দেখেছি, সরকারি দল হলে এক রকম বিচার হয়, বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষ হলে আরেক রকম, এটা চলতে পারে না।’
সারা দেশে দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গ তুলে খালেদা জিয়া বলেন, ‘বিএনপির এমন একজনও নেই যার বিরুদ্ধে মামলা নেই। বিএনপির কি সবাই অপরাধী? আর আওয়ামী লীগের সব কি সুফি হয়ে গেছে? যারা একসময়ে কেউ ২০ হাজার, কেউ ৩০ হাজার মানুষ গুম-খুন করেছে, যা রেকর্ডে আছে। আজ তারা সব ভালো মানুষ হয়ে গেছে।’
ইফতারে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তি ও রাজনীতিকেরা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী টি এইচ খান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম খান, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, আমিনুল হক, বদরুদ্দোজা বাদল, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আবদুল্লাহ আল নোমান, মীর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিন, আহমেদ আজম খান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সানাউল্লাহ মিয়া, খোরশেদ আলম, মহসিন মিয়া প্রমুখ। বিএনপির চেয়ারপারসন আসন্ন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী প্যানেলকে ঐক্যবদ্ধভাবে বিজয়ী করার জন্য আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0