default-image

কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পরও নির্বাচন হয়নি। সীমানা নির্ধারণ নিয়ে মামলা থাকায় এখানে নির্বাচন হচ্ছে না। আগামী ডিসেম্বর মাসে জেলার আটটি পৌরসভার মধ্যে সাতটিতে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। দেবীদ্বার নিয়ে কোনো ঘোষণা না এলেও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছয়জন মাঠে আছেন।
পৌর দপ্তরের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, ২০০২ সালের আগস্ট মাসে দেবীদ্বার উপজেলার সদর ইউনিয়ন এবং গুনাইঘর উত্তর, গুনাইঘর দক্ষিণ এবং সুবিল ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম নিয়ে এ পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালের ১৮ মার্চ বড় আলমপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুল মতিন সরকার পৌরসভার মধ্যে থাকতে চান না এ মর্মে হাইকোর্টে একটি রিট করেন। তাঁর ওই রিট পিটিশন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। এরপর ২০০৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে তিনি আপিল করেন। বর্তমানে ওই মামলা বিচারাধীন।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া ২০০৯ সালের ১৭ মে দেবীদ্বার থানার লাগোয়া বাসিন্দা আসাদুজ্জামান পাঠান দেবীদ্বার পৌরসভা বাতিলের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। সম্প্রতি ওই রিট খারিজ করে দেন উচ্চ আদালত। এই রায়ের বিরুদ্ধেও আপিল করা হয়। সেটিও বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। মামলা দুটি থাকার কারণে ওই পৌরসভায় নির্বাচন হচ্ছে না। এরপর ২০১১ সালের ১৮ জানুয়ারি ও ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর কুমিল্লার সাতটি পৌরসভায় নির্বাচন হলেও দেবীদ্বার পৌরসভায় কোনো নির্বাচন হয়নি।

এদিকে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও নির্বাচন করার জন্য পৌর এলাকায় ফেস্টুন ও ব্যানার টাঙিয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রত্যাশীরা। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌরসভার খাদ্যগুদাম এলাকা ও মোহনা আবাসিক এলাকায় পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কাসেমের ছবিসংবলিত ফেস্টুন বিভিন্ন খুঁটিতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, ‘তফসিল হলে দলের কাছে মনোনয়ন চাইব।’
একই এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাইফুল ইসলামের শত শত পোস্টার টাঙানো আছে। এই পৌরসভায় মেয়র পদে আরও নির্বাচন করতে চান উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন ওরফে ভিপি রাজু, পৌর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কেফায়েত উল্লাহ ও স্বপন মোল্লা এবং পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য কাইয়ুম ভূঁইয়া।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন বলেন, সীমানা নিয়ে মামলা আছে। সেটি শেষ হলে নির্বাচন হবে। স্থানীয় সাংসদ ও দলের লোকজন মিলে প্রার্থী ঠিক করবেন।
কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তাঁরা এবারও ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে রেখেছেন। নির্বাচন হলে এখানে ৪০ হাজার ৮৬৭ জন ভোটার ভোট দিতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

পাঠাগারে চলছে দাপ্তরিক কাজ

২০০৪ সালের ২৫ জুন পৌরসভার পশ্চিম প্রান্তে গুনাইঘর এলাকার প্রায় ৩ একর জায়গার ওপর ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে দ্বিতল পৌর ভবন কাজ শুরু হয়। ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে এর উদ্বোধন করা হয়। ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দূরত্বের কারণ দেখিয়ে সেখান থেকে পৌরসভার কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয় উপজেলা পরিষদসংলগ্ন সরকারি পাঠাগারে। বর্তমানে পাঠাগারের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ এবং নিচতলার দুটি কক্ষে পৌরসভার কাজ চলে।
দেবীদ্বার পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিব হাসান বলেন, তিনি যোগদানের বহু আগ থেকে পাঠাগারে চলছে পৌরসভার কার্যক্রম। পৌর ভবন নিয়ে এখানকার মানুষের মধ্যে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া রয়েছে। যে কারণে ভবনটি খালি পড়ে আছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এলে নিশ্চয়ই এর একটা সুরাহা হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0