বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত দুই সিটি নির্বাচনের তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে, ২০১১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ লাখ ৮০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়েছিলেন আইভী। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শামীম ওসমান পেয়েছিলেন ৭৮ হাজার ৭০৫ ভোট। এরপর ২০১৬ সালে নৌকা প্রতীক নিয়ে আইভী পান ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬১১ ভোট। যদিও ওই নির্বাচনে শামীম ওসমান দলীয় প্রার্থী হিসেবে আইভিকে সমর্থন দিয়েছিলেন। আর আইভীর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত পান ৯৬ হাজার ৪৪ ভোট।

চ্যালেঞ্জ একটু বেড়েছে, এটা সত্য। তবে গতবার দলীয় প্রতীক নিয়েই জয় পেয়েছি, এবারও পাব।
সেলিনা হায়াৎ আইভী আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী

প্রথমবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ লাখ ১ হাজার ৩৪৫ ভোটের ব্যবধানে জয় পেলেও পরের বার দলীয় প্রতীক নিয়ে ৭৯ হাজার ৫৬৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন আইভী। তাঁর সমর্থকেরা বলছেন, এবার দলীয় প্রতীক না হলে আইভী আরও এগিয়ে থাকতেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ভরাডুবি দেখা গেছে। কোথাও কোথাও দলীয় প্রতীক নিয়ে জামানত হারিয়েছেন নৌকার প্রার্থীরা। তাই আইভীর প্রচারে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিও তেমন চান না তাঁরা।

দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করাকে বাড়তি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী নিজেও। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ একটু বেড়েছে, এটা সত্য। তবে গতবার দলীয় প্রতীক নিয়েই জয় পেয়েছি, এবারও পাব। সেটি ছিল সারা দেশে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে দলীয় প্রতীকের প্রথম নির্বাচন। অনেক জায়গায় গেলে মানুষ প্রশ্ন করে। সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করি, আমার মার্কা নৌকা, তবে এটা জাতীয় নির্বাচন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিপক্ষরা নৌকার বিরুদ্ধে অনেক অপপ্রচারও চালাচ্ছে, সব সময়ই করে থাকে। সাধারণ মানুষ আমাকে চেনে, জানে; তাই প্রতীক নিয়ে কোনো ঝামেলা হবে না।’

দলীয় প্রতীক না হওয়ায় সর্বদলীয় মানুষ একটা সুযোগ পেয়েছে।
তৈমুর আলম খন্দকার স্বতন্ত্র প্রার্থী

দলীয় প্রতীক নিয়ে নারায়ণগঞ্জের ভোটারদের মধ্যেও বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কদমতলী এলাকার বাসিন্দা কমর আলী বলেন, আইভী আইভী-ই। আইভীকে নৌকা কেন? অন্য প্রতীক দিলেও আইভী পাস করবেন। সানারপাড় এলাকার বাসিন্দা জুয়েল হোসেন বলেন, নৌকা মানুষ পছন্দ করে না। প্রতীকের কারণে আইভী পেছনে পড়তে পারেন। জালকুড়ি এলাকার বাসিন্দা হেমায়েত হোসেন বলেন, ‘প্রতীক গুরুত্বপূর্ণ হবে না। আইভী কাজ করেছেন, কাজের কারণে তাঁকে ভোট দিব।’ আর সিদ্ধিরগঞ্জে চিত্তরঞ্জন এলাকার বাসিন্দা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আবদুল মজিদ বলেন, আইভীর জনপ্রিয়তা আছে। তবে নৌকার প্রতি মানুষের বিরূপ ধারণার কারণে তিনি বেকায়দায় পড়তে পারেন। তৈমুর ধানের শীষের প্রতীক না পেলেও বিএনপির ভোট পাবেন।

এবার বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তবে বিএনপির নেতা তৈমুর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে লড়ছেন। গতকাল দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদ থেকে তৈমুর আলমের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে বিএনপি। এর আগে গত ২৫ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা আহ্বায়কের পদ থেকে তৈমুরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে তৈমুরের নির্বাচনে মাঠে থাকা বিএনপির অন্য কোনো নেতাকে দলটি বহিষ্কার করেনি।

‘প্রতীক গুরুত্বপূর্ণ হবে না। আইভী কাজ করেছেন, কাজের কারণে তাঁকে ভোট দিব।’
জালকুড়ি এলাকার বাসিন্দা হেমায়েত হোসেন

তৈমুর আলম খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীকে করাটা মানুষ পছন্দ করে না। একদলীয় শাসন কায়েম করতে আওয়ামী লীগ সরকার স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক দিয়েছে। এতে জনগণ মনঃক্ষুণ্ন। স্থানীয় নির্বাচনে অনেক জায়গায় তাই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।’

স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নির্বাচনী প্রচারে এগিয়ে রাখছে কি না, জানতে চাইলে তৈমুর আলম বলেন, ‘অবশ্যই, দলীয় প্রতীক না হওয়ায় সর্বদলীয় মানুষ একটা সুযোগ পেয়েছে। এখানে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, ধর্মীয় দল, ধর্মনিরপেক্ষ দলও নামছে। হিন্দু, মুসলমানসহ সবাই নামতে পারছে।’

প্রার্থীদের জনসংযোগ

১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এবার মোট ভোটার ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৬১ জন। প্রতিদিন সকাল থেকে শহরের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জনসংযোগ করছেন মেয়র পদে লড়াই করা দুই মূল প্রার্থী। নির্বাচনী প্রচারে নিজের সময়ে করা বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরছেন আইভী। একই সঙ্গে দিচ্ছেন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি। আর নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের হয়ে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তৈমুর। একই সঙ্গে তিনি সরকারের নানা কাজের সমালোচনাও করছেন। নারায়ণগঞ্জের মানুষের উন্নয়নবঞ্চিত হওয়ার কথাও প্রচার করছেন।

আইভী-তৈমুর ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাসুম বিল্লাহ্ (হাতপাখা), বাংলাদশ কল্যাণ পার্টির রাশেদ ফেরদৌস (হাতঘড়ি), খেলাফত মজলিসের এ বি এম সিরাজুল মামুন (দেয়ালঘড়ি), বাংলাদশ খেলাফত আন্দোলনের জসীমউদ্দীন (বটগাছ) প্রতিদিনই প্রচারে নামছেন। গতকাল নারায়ণগঞ্জ শহীদ মিনারের সামনে সমাবেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল ইসলাম (ঘোড়া) এখনো প্রচারে নামেননি।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) নারায়ণগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা প্রথম আলোকে বলেন, নারায়ণগঞ্জের ক্ষেত্রে দলীয় প্রভাব নয়, ব্যক্তি ভাবমূর্তি মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। অতীতেও এটি দেখা গেছে। তবে দলীয় প্রতীকের প্রভাব কিছুটা থাকলেও আইভীর ক্ষেত্রে এটি না–ও পড়তে পারে। আইভী নিজেই একটি প্রতীক, তাঁর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা আছে।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন