default-image

 পাহাড়ের দুই বিবদমান রাজনৈতিক দলের রেষারেষিতে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল খাগড়াছড়ির পানছড়ি বাজার। বন্ধ হওয়ার ১১ মাস পর আজ রোববার সেই বাজার চালু হলো। প্রাণ ফিরে এল এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের এই স্থানটিতে।

আজ সকালে পানছড়ি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, হাজারো পাহাড়ি-বাঙালির ভিড় বাজারের সবখানে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে ফলমূল, শাকসবজি, মাছ-মাংস, ধান, হলুদ ও গরু-ছাগল বেচাকেনা জমে উঠেছে।

পুজগাং থেকে হাটে শুকনো হলুদ বিক্রি করতে আসা কৃষ্ণ মনি চাকমা বলেন, ‘১১ মাস পর বাজারের পরিস্থিতি মীমাংসা হওয়ার খবর শুনে হাটে এসেছি। ঘরে বসে যে হলুদ কেজিপ্রতি ৫৫ টাকায় বিক্রি করেছি, সেই রকম হলুদ হাটে বিক্রি করলাম ৭৫ টাকায়। বেশি দামে হলুদ বিক্রি করতে পারার কারণে বাড়ির জন্য একটি নতুন খাট কিনে নিয়ে যাচ্ছি।’

আদা, হলুদ ও মৌসুমি ফলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সমিতির থেকে নেওয়া লোনের টাকা পরিশোধ করতে না পারার কারণে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ব্যবসা গুটিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গেছি। বৃহস্পতিবার বাজার সচল হওয়ার খবর পেয়ে চলে এসেছি। আশা করছি আগামী সপ্তাহে এর চেয়ে বেশি জমজমাট হবে।’

default-image

এত দিন বাজার বন্ধ থাকার জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনেকেই ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। আবার অনেকে ব্যবসায় গুটিয়ে চলেও গেছেন। ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ এসব ক্ষতির কথাও বললেন আজ।
পানছড়ি বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন কান্তি বৈদ্য বলেন, ‘অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা গুটিয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। তিন-চার দিন থেকে পাহাড়িরা বাজারে আসা শুরু করলেও আজ রোববার হাটের দিন বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাহাড়ি এসেছে। আশা করি আগামী দিনে পাহাড়ি-বাঙালি একত্রে মিলেমিশে বাজার সচল রাখবে।’

২০১৮ সালের ২০মে থেকে বাজার বন্ধ হয়ে যায়। এই বাজারের ‘শুকতারা’ নামের এক আবাসিক হোটেলে প্রতিদ্বন্দ্বী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) সমর্থকেরা থাকে, এমন অভিযোগে পাহাড়িদের পানছড়ি বাজারে আসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) বিরুদ্ধে। তবে প্রথম থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউপিডিএফ

ইউপিডিএফ পানছড়ি উপজেলা সংগঠক প্রাণেশ চাকমা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘পানছড়ি বাজারের ব্যবসায়ীরা আমাদের সংগঠনের কাছে আবেদন করেন পাহাড়িদের বাজারের আসার বিষয়টি দেখার জন্য। আমরা সাধারণ পাহাড়িদের বুঝিয়েছি, অনুরোধ করেছি বাজারে যাওয়ার জন্য। তবে সাধারণ পাহাড়িরা শর্ত সাপেক্ষে রাজি হয়েছেন।’ প্রাণেশ বলেন, জেএসএসের (এমএন লারমা) লোকজন যদি বাজারে পাহাড়িদের হয়রানি করেন তবে তাঁরা আবারও বাজার বর্জন করবেন।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন