গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। তবে গতকাল রোববার রাত ১১টা পর্যন্ত দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি বিএনপি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মৌচাক ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই চেয়ারম্যান ও সদস্য পদের প্রার্থী এবং ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনাও লক্ষ করা যায়। সদস্য পদের প্রার্থীদের নিয়ে তেমন আলোচনা না হলেও চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয় নানা গুঞ্জন। আওয়ামী লীগের তিনজন দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তদবির শুরু করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগ তিনজনেরই নাম কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠায়। গত শুক্রবার কেন্দ্রীয়ভাবে দলীয় প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয় বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সদস্য লোকমান হোসেন লোকমান হোসেনকে। লোকমান বলেন, তাঁকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী করা হয়েছে। সে হিসেবে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন।
এদিকে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন আজ সোমবার। তবে গতকাল দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি বিএনপি। তফসিল ঘোষণার পর সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী হিসেবে অনেকের নাম শোনা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁরা নির্বাচন করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এর মধ্যে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. শাহ আলমের নাম উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির সিকদার, পৌর ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হারুন অর রশিদ ও পৌর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ উদ্দিন প্রার্থী হতে পারেন বলে শোনা যায়। হারুন ও আলহাজ মনোনয়নপত্রও তুলেছেন। হারুন ও আলহাজ দুজনই বলেন, তাঁরা দলীয় সমর্থন পেলে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী বলেন, বিগত দিনের সরকারবিরোধী আন্দোলনের কারণে একাধিক মামলার আসামি হয়ে নেতা-কর্মীদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। আর্থিকভাবেও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাঁরা। দলীয় প্রার্থী হলেও দলের নেতা-কর্মীদের তেমন কোনো সহযোগিতা না পাওয়ার আশঙ্কায় জ্যেষ্ঠ নেতারা প্রার্থী হতে চাচ্ছেন না।
মৌচাক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুল ইসলাম বলেন, এখনো মাথার ওপর বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা ঝুলছে। নতুন করে দলীয় প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করলে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে। এ কারণে তিনি প্রার্থী হচ্ছেন না।
গাজীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কালিয়াকৈর উপজেলার বিএনপির সভাপতি কাজী সাইয়্যেদুল আলম বাবুল প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত তাঁরা দলীয় প্রার্থী নির্বাচন করতে পারেননি। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন