বগুড়া-১ উপনির্বাচন : কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী?

বিজ্ঞাপন
default-image

আওয়ামী লীগের তিনবারের সাংসদ আবদুল মান্নানের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। গতকাল সোমবার বিকেল থেকে দলীয় ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলীয় ফরম সংগ্রহ শুরু করেছেন। আজ মঙ্গলবারও দলীয় মনোনয়নের জন্য কেন্দ্র থেকে ফরম সংগ্রহ করা যাবে। আগামীকাল বুধবারের মধ্যে দলটির মনোনয়ন বোর্ডের কাছে এসব ফরম দাখিল করতে হবে। এরপর ওই বোর্ড দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে। 

বিএনপির রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি গতকাল মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মভিটা বগুড়া এখনো দলটির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট হলে বগুড়া-১ আসনে অন্য দলের প্রার্থীরা জামানত হারাবেন। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে উপনির্বাচন কেমন হবে তার ওপর। 

বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বগুড়া-৬ আসনের সাংসদ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, বিএনপির মতো বড় দলে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা অনেক হবে, সেটাই স্বাভাবিক। সব নেতার দলীয় আমলনামা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে। তিনি যাঁকে যোগ্য মনে করবেন, তিনি ধানের শীষের প্রার্থী হবেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির সাবেক সাংসদ কাজী রফিকুল ইসলাম, সোনাতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির, জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাবেক শিশুবিষয়ক সম্পাদক মোশারফ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সদস্য ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) বগুড়া জেলা কমিটির আহ্বায়ক শাহ মো. শাহজাহান আলী, সারিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান প্রমুখ।

ঢাকায় বসবাসকারী কাজী রফিকুল ইসলাম ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন। দলে সংস্কারপন্থীদের পক্ষ নেওয়ায় ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাঁর বদলে জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও বগুড়ার আলোচিত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শোকরানাকে দলীয় প্রার্থী করা হয়। ওই নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আবদুল মান্নানের কাছে প্রায় সাত হাজার ভোটে পরাজিত হন তিনি। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে শোকরানা মনোনয়ন চাইলেও কাজী রফিকুল ইসলামকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। কয়েক মাস পর ব্যবসায়ী শোকরানা বিএনপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। শোকরানার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে কাজী রফিকুলের মনোনয়ন পাওয়ার পথ অনেকটা মসৃণ হলেও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন সোনাতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আহসানুল তৈয়ব জাকির। 

জানতে চাইলে কাজী রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে মাঠ ফাঁকা করতে ধানের শীষের হাজার হাজার কর্মীর বিরুদ্ধে ১৮টি গায়েবি মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার ও হয়রানির মাধ্যমে ভোটের আগে মাঠছাড়া করা হয়। ভোটের আগের রাতেই ব্যালট কেটে বাক্স ভরে প্রহসনের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট হলে উপনির্বাচনে ধানের শীষ আর নৌকার ভোটের ব্যবধান হবে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ফলাফলের ঠিক উল্টো।’ কাজী রফিকুল বলেন, দল যাঁকে যোগ্য মনে করবে, তিনিই মনোনয়ন পাবেন। মনোনয়ন না পেলেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন বলে জানান কাজী রফিকুল। 

দলের আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী আহসানুল তৈয়ব জাকির প্রথম আলোকে বলেন, গত সাতটি জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে তিনি দলীয় সমন্বয়ক ছিলেন। সোনাতলায় ছাত্রদল থেকে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ৫৮টি মামলার আসামি হয়ে আদালত ও কারাগারে যাতায়াত করছেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৬৮টি মামলা মোকাবিলা করছেন। সোনাতলা উপজেলায় বিএনপিকে একচ্ছত্র দল হিসেবে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করেছেন তিনি। দলে ত্যাগ, অবদান, সাংগঠনিক অবস্থান বিবেচনায় ধানের শীষের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী।

মনোনয়নপ্রত্যাশী মোশারফ হোসেন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার খরচ জোগানোসহ
নানাভাবে তিনি পাশে রয়েছেন। ত্যাগ ও শ্রমের মূল্যায়ন করে দল তাঁকেই মনোনয়ন দেবে বলে আশাবাদী তিনিও।

এই উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী শাহ মো. শাহজাহান আলী প্রথম আলোকে বলেন, বগুড়ায় বিএমএ, ড্যাব, জিয়া পরিষদ, জেলা বিএনপির নেতৃত্ব দেওয়া ছাড়াও শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ, অ্যাজমা সেন্টারসহ বহু প্রতিষ্ঠান গড়ায় নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি। তাই মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। 

বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণার সিদ্ধান্তের বিষয়ে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, সোমবার (গতকাল) সন্ধ্যায় গুলশান কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে বগুড়া-১ আসন ছাড়াও ঢাকা, বাগেরহাট, যশোর, গাইবান্ধা উপনির্বাচনে দলের প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বগুড়া-১ আসনে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণার কথা রয়েছে মঙ্গলবারের পরে।

রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার গুলশানে দলীয় কার্যালয়ের ওই বৈঠক সম্পর্কে বলেন, সেখানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন ছাড়াও ঢাকা-১০, যশোর-৬, বাগেরহাট-৪, গাইবান্ধা-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হবে। বগুড়া-১ আসনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত হবে আগামী বুধবার। ওই দিন কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বিএনপির প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।

 বগুড়া-১ আসনের উপনির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এ এস এম জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বগুড়া-১ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ২৯ মার্চ। মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বাছাই হবে ১ মার্চ। মনোনয়ন নিয়ে আপিল করা যাবে ২ থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত। আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ৮ মার্চ। ভোট হবে ব্যালটে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন