বিক্ষোভ সমাবেশে বন্যার পেছনে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন-দর্শনকে দায়ী করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার।

তিনি বলেন, একদিকে বন্যার পেছনে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন-দর্শন দায়ী, অন্যদিকে মানুষের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। বেসামরিক প্রশাসন পরিস্থিতি কোনোভাবেই সামাল দিতে পারছে না বলে সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝার জন্য এই একটি তথ্যই যথেষ্ট। বন্যার্ত মানুষদের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ না করে সরকার ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের প্রচারের জন্য লুটপাট চালাচ্ছে।

মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে সরকার জনগণের টাকা খরচ করে রাষ্ট্রময় প্রচার করতে পারত না। জনগণের করের টাকায় সেতু নির্মাণ করে তার কৃতিত্ব জনগণকে না দিয়ে আওয়ামী লীগের কৃতিত্ব হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এই সরকার প্রকৃতি বিধ্বংসী নানা প্রকল্প নেওয়ায় দেশে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে। বর্তমান দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে একদিকে জনগণের পক্ষে দাঁড়াতে হবে, পাশাপাশি পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বর্তমান রক্ষক আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে উপড়ে ফেলার রাজনৈতিক সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।

রাশেদ শাহরিয়ার আরও বলেন, ভারতের চেরাপুঞ্জির রেকর্ড বৃষ্টিপাতকে বাংলাদেশের বন্যা মারাত্মক আকার ধারণ করার কারণ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু দেশের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এটি হওয়ার কারণ হলো হাওর অঞ্চলগুলোর যে স্রোত দিয়ে সিলেট-সুনামগঞ্জের পানি পদ্মা-যমুনা হয়ে সাগরে চলে যেত, সেই স্রোত বাধাগ্রস্ত হওয়া। হাওরে অবৈধ সড়ক নির্মাণ ও অপরিকল্পিত বাধ নির্মাণের কারণে পানি নেমে যাওয়ার পথ পাচ্ছে না। সিলেটে যেখানে বন্যায় মানুষ মরছে, ৪০ লাখ মানুষ পানিবন্দী, সেখানে তাদের বরাদ্দ মাত্র ৩০ লাখ টাকা, যা জনপ্রতি এক টাকাও বরাদ্দ নেই। এটা বরাদ্দের নামে মানুষের প্রতি সরকারের একটা উপহাস।

আওয়ামী লীগের ‘ফ্যাসিবাদী শাসনই’ এখন দেশের সবচেয়ে বড় দুর্যোগ বলে মন্তব্য করেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায়। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের জন্যই মানুষ আজকে বন্যা পরিস্থিতির মুখোমুখি। এই শাসনই বারবার এ ধরনের দুর্যোগ ও বিপর্যয় তৈরি করছে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (বাসদ) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শোভন রহমান বলেন, দেশে একদিকে মানুষের শোকের বিলাপ চলছে আর অন্যদিকে উন্নয়নের ডামাডোল বাজিয়ে মানুষের কষ্ট ও বেদনাকে উদ্‌যাপন করছে বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকার। এসবের বিরুদ্ধে কথা বললে বলা হচ্ছে উন্নয়নবিরোধী।

ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের নেতা তামজীদ হায়দারের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে ছাত্র ফেডারেশনের (জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল) কেন্দ্রীয় সভাপতি মিতু সরকার, ছাত্র ফেডারেশনের (গণসংহতি আন্দোলন) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন