বিজ্ঞাপন

এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বিরোধী রাজনীতিতে জমিয়ত টিকতে পারছে না, তাই চলে গেছে। তিনি বলেন, ‘এই কথা বললেই তো হয়, প্রচণ্ড চাপে আমরা টিকতে পারছি না, মামলা-মোকাদ্দমায় ভীষণভাবে আমরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে গেছি। সেটা না বলে কোনো ব্যক্তি বা কোনো দলকে দোষারোপ করা সঠিক কাজ নয়।’

চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে যারা বিএনপির সঙ্গে রাজনীতি করছে, তাদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা চমৎকার বলে উল্লেখ করেন বিএনপির মহসচিব। এ ছাড়া বলেন, জোট ছাড়া নিয়ে জমিয়ত সংবাদ সম্মলেন যা বলেছে, তার কিছুই সত্য নয়।

গ্যাটকো মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ অন্যদের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ মিলেছে, উচ্চ আদালতের রায়ে এমন মন্তব্য নিয়ে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিএনপি। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গ্যাটকো মামলার এখনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি। কয়েক বছর আগে শুধু চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। বিচার কার্যক্রম শুরু হয়নি। মামলা নিম্ন আদালতে বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় তিন বছর পর প্রকাশিত রায়ে উচ্চ আদালতের এই ধরনের মন্তব্য উদ্দেশ্যমূলক ও অগ্রহণযোগ্য। এই ধরনের মন্তব্য নিম্ন আদালতকে প্রভাবিত করবে। এ ধরনের মন্তব্য যেকোনো নাগরিকের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পরিপন্থী।

মির্জা ফখরুল বলেন, করোনা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। করোনার টিকা বিষয়ে সরকার দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে গোটা পরিস্থিতিকে লেজে গোবরে করে ফেলেছে। টিকা সংগ্রহ ও বিতরণের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ জনগণের সামনে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

সরকারের বিধিনিষেধ ঘোষণাকে মর্মান্তিক তামাশা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রথমে লকডাউন, তারপরে কঠোর লকডাউন, পরে শিথিল লকডাউন, ঈদের এক দিন পর থেকে আরও কঠোর লকডাউন, শিল্পকলকারখানা বন্ধ ঘোষণা। এসব থেকে মনে হয়, সরকারি সিদ্ধান্তগুলো পাবনার হেমায়েতপুর থেকে আসছে। সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে দিনমজুর মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানান তিনি।

দেশের জেলা হাসপাতালগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে ফখরুল বলেন, আক্রান্ত রোগী ও স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। গাছের তলায়, অ্যাম্বুলেন্সে অথবা ভ্যানের ওপর রোগীর চিকিৎসার দৃশ্য কি মধ্য আয়ের বাংলাদেশ বা উন্নয়নের মডেল বাংলাদেশের ছবি দেখায়?
দলের পক্ষ থেকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানান বিএনপি মহাসচিব। খালেদা জিয়া কবে করোনার টিকা নেবেন জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল জানান, এটা চিকিৎসকেরা বলতে পারবেন। ৮ জুলাই ‘সুরক্ষা’ অ্যাপের মাধ্যমে করোনার টিকা জন্য রেজিস্ট্রেশন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ওয়েবসাইটে খালেদা জিয়ার টিকার স্থান মহাখালী ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল লেখা হয়েছে।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন