default-image

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাঁর নির্বাচনী এলাকা বসুরহাট পৌরসভায় ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জার বিজয়ে অতি আনন্দিত হয়েছেন। খুশি হয়ে তিনি বলেছেন, বসুরহাটে যে নির্বাচন হয়েছে, সেটা নাকি স্বচ্ছতার মডেল। রিজভী বলেন, বসুরহাট পৌর নির্বাচন ক্ষমতাসীনদের ভণ্ডামির নতুন মডেল।

আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রুহুল কবীর রিজভী।

রিজভী বলেন, বসুরহাট মডেলের মর্মার্থ হলো ‘সবই আমরা আমরা’। এই মডেলে তারা (আওয়ামী লীগ) নিজেরাই নিজেদের প্রশংসায় ভাসিয়ে দেবে। আবার নিজেরাই নিজেদের বিরোধিতায় মেতে উঠবে। এমন বিরোধিতায় একদিকে গণমাধ্যমকে ব্যস্ত রাখা যায়, অন্যদিকে নির্বাচন নামের প্রহসনকে আলোচনায় রাখা যায়। এটাই হলো ‘বসুরহাট’ মডেল।

বিজ্ঞাপন

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আমরা মনে করি, পূর্বনির্ধারিত এসব একতরফা নির্বাচনকে একটু রমরমা করতেই এবারের “মডেল” ছিলেন আবদুল কাদের মির্জা। আওয়ামী লীগের এই নাটক মানুষ আগেই টের পেয়েছিল।’

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, দ্বিতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে আগের মতোই ব্যাপক সহিংসতা, রক্তপাত ও ভোট ডাকাতি করেছে ক্ষমতাসীনেরা। নির্বাচন নিয়ে অন্ধকার পরিবেশের কোনো পরিবর্তনই হয়নি।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, সিরাজগঞ্জের শহীদগঞ্জে ভোটে জয়ী বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী তরিকুল ইসলামকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর হত্যাকারীদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।

রিজভী বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি, কৃত্রিম সারি তৈরি করে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে না দেওয়া, নৌকা ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়া, কেন্দ্র থেকে এজেন্ট-প্রার্থীদের গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া, ভোটের ফলাফল সরকারদলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ঘোষণা করা, বিএনপির নেতা-কর্মীদের হয় কারাগারে নয়তো এলাকাছাড়া করা—এসবই হয়েছে এই পৌর নির্বাচনে।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, অনিয়ম, ভোট জালিয়াতি ও পেশিশক্তির বিষয়ে অভিযোগ করা হলেও রিটার্নিং কর্মকর্তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি।

রিজভী বলেন, ভোট নিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেছেন, পৌরসভা নির্বাচনে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে প্রচুর ভোটার উপস্থিতি ছিল। ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। মো. আলমগীরের এই দাবিকে নগদ মিথ্যা বলে অভিহত করেন রিজভী।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। অথচ সিইসি নূরুল হুদার নেতৃত্বে যে কমিশন, সেই কমিশনের অধীনে আজ পর্যন্ত একটি নির্বাচনও সুষ্ঠু হয়নি। নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সরকারের ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হয়েছে। বরাবরের মতোই শনিবারের পৌরসভার নির্বাচনগুলোতেও সরকারদলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত নির্লজ্জ। নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হলেও নিজেদের স্বাধীন সত্তা বিকিয়ে দিয়ে সরকারের অঙ্গপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রিজভী বলেন, দেশের জনগণ জানে, আওয়ামী লীগের আমলে জাতীয় কিংবা স্থানীয় নির্বাচনে জনগণের ভোটে হারজিত নির্ধারিত হয় না। নির্বাচন কমিশন স্রেফ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী পোস্ট বক্স।

১৯ জানুয়ারি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে বিএনপি ইতিমধ্যে বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে দলের কর্মসূচির কথা জানান রিজভী।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন