বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে ভারতীয় দালালদের সহায়তায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাবা নুরুল ইসলামের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল ফেলানী। মই দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় বিএসএফের সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে ফেলানী মারা যায়। এরপর তার দেহ অন্তত পাঁচ ঘণ্টা কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে থাকে।
আলোচনা সভায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন।

পৃথিবীর সব দেশেই সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনা ঘটে। তাতে গ্রেপ্তার হয়, বিচার হয় কিন্তু গুলি করে হত্যা করা হয় না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ১০ বছর ধরে এটা নিয়মিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গুলি না করার সিদ্ধান্ত নিলেও ভারতের বিএসএফ পাখি শিকারের মতো গুলি করছে। বিএসএফ একতরফা গুলি করছে।

প্রতিবছরই বাংলাদেশ গুলি, অস্ত্র কিনছে। তবে তা ব্যয় হচ্ছে জনগণকে মারার জন্য।’
সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় একটি অংশের কাঁপুনি শুরু হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘কিন্তু বৃহত্তর অংশ আশার আলো দেখছে। দুষ্ট দমনে আমরা ব্যর্থ হলেও গণতান্ত্রিক বিশ্বের চোখ-কান খোলা।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভিসা বাতিলের খবর আসছে উল্লেখ করে গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, বিদেশে পালানোর পথ রুদ্ধ। পরীক্ষামূলকভাবে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে পাঠানো হয়। কিন্তু তাঁকে কোনো দেশই জায়গা দেয়নি। ভারতও জায়গা দেবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন এই বিএনপি নেতা।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, নিষেধাজ্ঞার তালিকা কত বাড়বে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। এখানে নানা শ্রেণির লোক যুক্ত হবে। এসবই আওয়ামী লীগের ঘরের লোক। এতে শুধু সরকারেরই সমাধি হবে না। রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগেরও সমাধি অতি নিকটে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই নেতা বলেন, মন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার কথা বলেন। এখন সে দেশে যাঁরা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেন, তাঁদের বাংলাদেশ নিষেধাজ্ঞা দেবে কি না।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এ সরকারের পতনের পর পাড়া–মহল্লায় বড় বড় ডিজিটাল ব্যানারে লেখা থাকবে—এই গ্রামে কোনো আওয়ামী লীগ নেই, এমনকি গোপালগঞ্জেও। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাজাকার ছিল এই জেলায়। এখন সেখানে সবাই মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেছে।

দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপেদষ্টা আবদুস সালাম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান প্রমুখ।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন