default-image

জাতীয় সংসদের ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে সকাল আটটা থেকে। কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরের আইইএস স্কুলে তিনটি নির্বাচনী কেন্দ্র আছে। এসব কেন্দ্রের বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। কিন্তু ভেতরে ভোটারদের তেমন উপস্থিতি নেই। পোলিং কর্মকর্তারা বলছেন, ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হলেও ২ ঘণ্টায় এ কেন্দ্রে ৪০টির মতো ভোট পড়েছে।

আইইএস স্কুলের ১৬ নম্বর কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম মিয়া বলেন, ১১টা পর্যন্ত তাঁর কেন্দ্রে ২০টির মতো ভোট পড়েছে। নির্বাচনের পরিস্থিতি সুস্থ। কিন্তু ভোটার উপস্থিতি একেবারেই নেই।

সকাল সাড়ে সাড়ে নয়টার দিকে এ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ হাবিব হাসান ভোট দিতে আসেন। তিনি বলেন, ভোটাররা ধীরে ধীরে আসছেন। ভোট অনেক বেশি পড়বে বলে তিনি আশা করছেন।

তুরাগের কিশলয় একাডেমি স্কুলে নারী ভোটকেন্দ্র। এই কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি খুবই কম দেখা গেছে। কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না গণমাধ্যমের কোনো কর্মীকে। পুলিশ বাধা দিচ্ছে। পুলিশের দায়িত্বরত সদস্যরা বলছেন, তাঁদের ওপর নির্দেশ আছে কোনো সাংবাদিক কেন্দ্রে ঢুকতে পারবেন না।

বিজ্ঞাপন

তুরাগের শেরেবাংলা মডেল স্কুলের পুরুষ কেন্দ্রেও একই পরিস্থিতি দেখা যায়। সেখানে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মীরা গণমাধ্যমের কর্মীদের ঢুকতে বাধা দিচ্ছেন। পোলিং কর্মকর্তারা বলছেন, সেখানে সকাল ৯টা পর্যন্ত ২০টি ভোট পড়েছে।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকজন বহিরাগতদের নিয়ে এসে কেন্দ্র দখল করছে এবং বিএনপির এজেন্টদের বের করে দিচ্ছেন।’

আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিব হাসান বলেছেন, তিনি বেশ কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

default-image

হাবিব হাসান বলেন, ‘বিএনপির অভিযোগ মিথ্যা। বহিরাগত লোকের তাঁর প্রয়োজন নেই।’

বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। উভয় আসনেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ, বিএনপির প্রার্থীসহ মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন—আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ হাবিব হাসান, বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, জাতীয় পার্টির নাসির উদ্দিন সরকার, গণফ্রন্টের প্রার্থী গাজী মো. শহীদুল্লাহ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী ওমর ফারুক ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টির প্রার্থী মহিবুউল্লাহ বাহার।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-১৮ আসনে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ১৯০ জন ভোটার রয়েছেন। খিলক্ষেত, উত্তরা, উত্তরখান, দক্ষিণখান, তুরাগ ও হরিরামপুর এলাকার ৭টি থানা আর ১৪টি ওয়ার্ড নিয়ে এই আসনের এলাকা। এ আসনে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৯৬ হাজার ১৩৬ জন। নারী ভোটার ২ লাখ ৮১ হাজার ৫৪ জন। ভোটকেন্দ্র রয়েছে ২১৭ টি। ভোটকক্ষের সংখ্যা ১ হাজার ৩৫৩ টি।

নির্বাচনী এলাকায় মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, ট্রাক ও অন্যান্য মোটরচালিত যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।

গত ৯ জুলাই আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে ঢাকা-১৮ আসনটি শূন্য হয়।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন এই দুই আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0