default-image

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, রাজধানীতে বাস পোড়ানোর ঘটনায় সরকারি এজেন্টদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এ অভিযোগ করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ৯টি এলাকায় ৯টি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ৪৪৬ জনকে। আটক করা হয়েছে ২০ জনকে। আসামিদের বেশির ভাগ বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী।

বাস পোড়ানোর ঘটনার নিন্দা জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, বিএনপি এ ধরনের (বাসে আগুন) রাজনীতি করে না।

মির্জা ফখরুলের ভাষ্য, সরকারের কিছু এজেন্ট থাকে, যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটায়। তিনি বলেন, ‘এই সরকারের কিছু কিছু অংশ, যারা বিভিন্নভাবে কাজ করে, কেউ কেউ এগুলোকে স্যাবোটাইজ করার জন্য এই ধরনের ঘটনা ঘটায়। এটাও আমরা অতীতে দেখেছি, বিএনপিকে এর আগেও এভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে।’
দুষ্কৃতকারী যারাই হোক, তাদের বিচারের আওতায় আনা দরকার বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।

বিজ্ঞাপন

বাস পোড়ানোর ঘটনায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের নামে মামলা সম্পর্কে দলটির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা যারা রাজনীতি করি, তারা সব সময় শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক চিন্তাভাবনা ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাজ করি। এগুলো কখন হয়, যখন দেশে কোনো গণতান্ত্রিক স্পেস থাকে না। আপনি একটা মিছিল করতে পারবেন না, কোথাও গিয়ে সভা করতে পারবেন না—এসব অনেক দিন ধরে হয়ে আসছে। যার ফলে অনেক সময় এই ধরনের যারা দুষ্কৃতকারী, তারা এই সুযোগগুলো নিয়ে এসব ঘটায়।’

যৌথ নেতৃত্বে বিএনপি চলছে ও দলের ঐক্য অটুট আছে বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘দলের মধ্যে কোনো ভাগ হয়নি। আমাদের দল চলে যৌথ নেতৃত্বের মাধ্যমে। আমাদের স্থায়ী কমিটির বৈঠক প্রতি শনিবার হয়, যেটা আগে কম হতো। এই মিটিং করে আমরা সিদ্ধান্ত নিই। এই কঠিন সময়ে বিএনপি যে ভূমিকা পালন করছে, আমি মনে করি, যথেষ্ট সঠিক ভূমিকা পালন করছে।’

বিএনপি মহাসচিব জানান, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন। এবং সবচেয়ে বড় প্রভাব নিয়ে আছেন।

‘বিএনপি গণতন্ত্রের জন্য প্রধান অন্তরায়’—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগই প্রধান অন্তরায়।

নির্বাচনে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শেখার আছে—প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এর চেয়ে হাস্যকর কথা একজন সিইসির কাছ থেকে আসতে পারে, এটা কল্পনাও করতে পারি না। এর থেকে বোঝা যায়, আমাদের গণতন্ত্রের অবস্থা কোথায়, নির্বাচনের ব্যবস্থা কোথায়, রাষ্ট্র কীভাবে চলছে।’
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0