default-image

বিএনপিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিএনপিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় যেতে হবে, নিরপরাধ জনগণের মৃতদেহের ওপর দিয়ে, সহিংসতা বা শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করে নয়।
আজ রোববার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনার উদ্দেশে নির্দেশনা দেওয়ার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী আজ ওই মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে যান। খবর বাসসের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় ছিল এবং তারা আবারও ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারে। কিন্তু তারা বাস ও ট্রাকচালক, শিশু এবং নিরপরাধ জনগণের আগুনে পোড়া দেহের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় যেতে পারে না। তাদের অবশ্যই একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
খালেদা জিয়া ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে রাজনৈতিক ভুল করেছেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশবাসী কেন তাঁর ভুল সিদ্ধান্তের জন্য মূল্য দেবে?’ প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন সর্বশক্তিমান আল্লাহ যেন খালেদা জিয়াকে সুমতি দেন যাতে তিনি ধ্বংসাত্মক নীতি থেকে সরে আসেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবকিছুই নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে চলছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন, একই সময়ে তাদের লক্ষ্য জনগণের ভোগান্তি বৃদ্ধি করা। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি নেত্রী হয়তো ‘উন্মাদ’ বা ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’ হয়ে পড়েছেন, তা নাহলে কিভাবে তিনি দিনের পর দিন নিজের বাসা ছেড়ে কার্যালয়ে অবস্থান করেন। এটা ঠিক স্পষ্ট নয় যে, তিনি কি ধরনের বিপ্লবের সূচনা প্রত্যাশা করেন। কিন্তু এটা সত্য যে, তিনি নরহত্যা করছেন এবং এমনকি শিশুদেরও জীবন্ত পুড়িয়ে মারছেন।
‘কিছু মানুষ হত্যা, অনেককে বিকলাঙ্গ, যানবাহন পোড়ানো এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংস ব্যতীত এ ধরনের আন্দোলন থেকে বিএনপির অর্জন কি’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি বিএনপি মনে করে এই ধ্বংসযজ্ঞ তাদের অর্জন, তাহলে জাতির জন্য তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু শুক্র ও শনিবারে এসএসসি পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কারণ, ছেলেমেয়েরা ঝুঁকির মধ্যে পরীক্ষার হলে যেতে পারে না। তাই নতুন করে পরীক্ষার সময়সূচি প্রস্তুত করা হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াত ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে বিধায় তাদের বিশ্বাস করা যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত চায় না জনগণ শিক্ষিত হোক, যদি জনগণ শিক্ষিত হয় তাহলে তারা জনগণকে ভুলপথে পরিচালিত করতে পারবে না।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। সেক্যুলারিজম মানে নাস্তিকতা নয়। সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করতে এটি হলো একটি রাষ্ট্রীয় নীতি। এই নীতি অনুযায়ী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর দেশের অন্যতম সাংবিধানিক মৌলিক নীতি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ধর্মমন্ত্রী এম মতিউর রহমান, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব চৌধুরী মোহাম্মদ বাবুল হাসান প্রমুখ। এ সময় মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন